মা ফাতিমা (রা.)-এর আদর্শ: শুধু পরিচয়ে নয়, চরিত্রেও

 প্রায়ই শোনা যায়—অনেকে মা ফাতিমা (রা.)-এর মতো হতে চান, কিন্তু জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কেবল দুনিয়াবি স্বাচ্ছন্দ্য, সম্পদ ও বিলাসিতাকেই অগ্রাধিকার দেন। এই কথাটি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আত্মসমালোচনার দিকে আহ্বান জানায়।

মা ফাতিমা (রা.)-এর মর্যাদা তাঁর পার্থিব সম্পদের কারণে নয়; বরং তাঁর ঈমান, তাকওয়া, লজ্জাশীলতা, ধৈর্য, সবর, আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রতি অবিচল আনুগত্য এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার কারণে। তিনি এমন এক জীবন যাপন করেছেন যেখানে দারিদ্র্য ছিল, কষ্ট ছিল, কিন্তু অভিযোগ ছিল না; ছিল আল্লাহর ওপর ভরসা এবং আখিরাতের প্রতি গভীর বিশ্বাস।

অন্যদিকে, হযরত আলী ছিলেন অসাধারণ চরিত্র, জ্ঞান, সাহস ও তাকওয়ার অধিকারী। তাঁর জীবনের একটি সময়ে আর্থিক স্বচ্ছলতা সীমিত ছিল, কিন্তু তিনি ছিলেন ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। তাঁদের দাম্পত্য জীবনের সৌন্দর্য সম্পদে নয়, বরং পারস্পরিক ভালোবাসা, ত্যাগ, আল্লাহভীতি এবং একে অপরের প্রতি দায়িত্ব পালনে প্রকাশ পেয়েছিল।

একইভাবে, হযরত উসমান ছিলেন ধনী সাহাবি, কিন্তু তাঁর প্রকৃত মর্যাদা তাঁর সম্পদের জন্য নয়; বরং তাঁর ঈমান, উদারতা, লজ্জাশীলতা এবং ইসলামের জন্য অকাতরে সম্পদ ব্যয় করার জন্য। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদ নিজে কোনো দোষ নয়; বরং সম্পদ কীভাবে অর্জন ও ব্যয় করা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের শিক্ষা হওয়া উচিত—জীবনসঙ্গী নির্বাচন হোক দ্বীন, চরিত্র, তাকওয়া ও উত্তম আখলাকের ভিত্তিতে। সম্পদ জীবনের একটি নিয়ামত হতে পারে, কিন্তু তা কখনো ঈমান, চরিত্র ও আল্লাহভীতির বিকল্প নয়।

মা ফাতিমা (রা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করতে চাইলে শুধু তাঁর মর্যাদা কামনা করলেই হবে না; তাঁর ধৈর্য, ত্যাগ, বিনয়, আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতা এবং সংসারে সন্তুষ্টির গুণও অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। একইভাবে, পুরুষদেরও হযরত আলী-এর ঈমান, ন্যায়পরায়ণতা, সাহস, দায়িত্ববোধ এবং উত্তম চরিত্র অনুসরণের চেষ্টা করতে হবে।

ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়—একটি সফল পরিবার গড়ে ওঠে পারস্পরিক তাকওয়া, দায়িত্বশীলতা, ভালোবাসা ও আল্লাহর সন্তুষ্টিকে কেন্দ্র করে; শুধু সম্পদ বা বাহ্যিক মর্যাদাকে কেন্দ্র করে নয়।

Thanks For Comment we are reply soon as possible.

Previous Post Next Post