বিউটিফুল ইসলাম, পর্ব ৩: মানুষের ধর্মচিন্তা।

 


x

 প্রতিটি মানব সন্তান মূলত পিতা-মাতার ধর্মের দিকে প্রভাবিত হয়, যার ফলস্বরূপ প্রতিটি মানব সন্তান বিশ্বাস করে তার বাবার ধর্মই তার নিজের ধর্ম। এই প্রক্রিয়াটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত এবং ভুল ধারণা আমরা শুধু মুসলমানের ঘরে জন্ম নিলেই মুসলমান নই একজন হিন্দু কিংবা ভিন্ন ধর্মের ব্যক্তি জন্ম দেওয়া প্রতিটা সন্তানকে মুসলিম হিসেবে ভূমিষ্ঠ করে। কিন্তু পরবর্তীকালে তার বাবা মা ওই সন্তানকে তার নিজেদের ধর্মে ধাবিত করে। একটা শিশুর বয়স ১০ বছর হওয়া পর্যন্ত সে মুসলমান হিসেবে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকে ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে যদি কোন ভিন্ন ধর্মের শিশুসন্তান মারা যায় তাহলে সে নিশ্চয় জান্নাতে প্রবেশ করবে। সাধারণভাবে ১০ বছর পর্যন্ত প্রতিটা মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি নিজের দ্বারা পরিচালিত হয় না সেটা সহপাঠী, প্রতিবেশী,সমাজ, পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দ্বারা যেকোনো বিষয়ে বা কাজে ধাবিত হয়।

একটা জিনিস লক্ষ্য করবেন ছোটকালে আমরা যখন যেকোনো বিষয়ে ভুল করতাম তখন আমাদের কেউ শাসন করত না , কারণ আমাদের এই বয়সটা ছিল শিক্ষানবিশ। যখন আমরা আস্তে আস্তে বড় হতে লাগলাম এবং আমাদের ভুলগুলোর জন্য আমাদের শাসন করা হতো।

                                     

আমাদের বয়স যখন ১০-১২ বছর হয়ে যায় তখন আস্তে আস্তে আমাদের মাঝে নিজস্ব বুদ্ধি চলে আসে। কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ, কোন কাজটা করলে আমাদের গালি খেতে হবে এবং কোন কাজের জন্য আমরা পুরস্কৃত হব এ বিষয়গুলো আমরা বুঝতে পারি। তাই ১০ বছর বয়স পর্যন্ত মহান আল্লাহতালা প্রতিটা মানবজাতিকে একজন মুসলমান হিসেবে গণ্য করেন। যখন সে আস্তে আস্তে প্রাপ্ত বয়স্ক হতে থাকে এবং সে ভিন্ন ধর্মে প্রভাবিত হয়ে মহান আল্লাহ তায়ালার  দ্বীন থেকে বিচ্যুতি হয়ে যায়, তখন থেকে সে একজন অমুসলিম হিসেবে পরিচিত লাভ করে।

আপনি যদি একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি হয়ে থাকেন এবং আপনার নিজস্ব বুদ্ধিবৃত্তি থেকে তাকে তাহলে এই প্রক্রিয়াটা অনুসরণ করে নিজের ধর্ম বেচে নেওয়া টা হল সবচেয়ে বড় বোকামি। মহান আল্লাহ তায়ালা আপনাকে জ্ঞান দান করেছেন। যে জ্ঞানের মাধ্যমে আপনি ভালোমন্দ বিচার করতে পারেন।

আপনাকে কেউ যদি একটা খারাপ খাবার দেয় সেটা খেতে চান না, আপনাকে যদি কেউ একটা পুরাতন পোশাক দেয় অথবা আপনার পছন্দ হয় না এমন একটা পোশাক দেয়, তাহলে আপনি সেটা পরিধান করতে চান না। কোন কাজটা ভালো, কোন কাজটা মন্দ, সবকিছু বোঝার মত আপনার বোধগম্য শক্তি রয়েছে। নিজের সব ভালো বুঝতে পারেন, তাহলে ধর্মের ক্ষেত্রে কেন বুঝতে পারেন না?

আপনি যে ধর্মে আছেন কিংবা আপনি যে ধর্মের প্রতি প্রভাবিত হয়েছেন সেটা আসলে সঠিক কিনা? অথচ মহান রব আপনাকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদত করার জন্য এবং তার  দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য। আপনি মূল জায়গায় ভুল করে ফেলেছেন, এখন আপনার কি করা উচিত?

নিশ্চয়ই আপনি একজন ভিন্ন ধর্মী ব্যক্তি হিসেবে / কিংবা সংশয়বাদী নাস্তিক হিসাবে মহান রবের উপস্থিতি খুঁজে বের করার জন্য নিজের জ্ঞানকে কাজে লাগান তাহলে বুঝতে পারবেন সঠিক ধর্ম কোনটি? সঠিক ধর্ম খোঁজার জন্য যদি আপনি ভুল মানুষের কাছে যান তাহলে আপনাকে আরো ভুল জায়গায় প্রভাবিত করতে পারে! তার জন্য ভালো হবে আপনি আসমানী গ্রন্থগুলো নিজে পড়ার চেষ্টা করুন এবং বুঝার চেষ্টা করুন সত্যিকার অর্থে আপনার মহান রব কে?

তাছাড়া নিজে ধর্ম তথ্য নিয়ে স্টাডি করুন এবং যারা ধর্মতত্ত্ব নিয়ে স্টাডি করে, সভা সেমিনার করে তাদের সাথে যোগাযোগ করুন। চাইলে ডক্টর জাকির নায়েকের ভিডিও গুলো দেখতে পারেন। মহান আল্লাহ তাআলার কাছে সাহায্য চান তিনি যেন আপনাকে সঠিক পথ দেখাতে সাহায্য করেন। অবশ্যই অহংকার এবং দাম্ভিকতার সহকারে সত্য পরিত্যাগ করবেন না।

প্রতিটা মুসলমানের পূর্বপুরুষগণ ভিন্নধর্মে ছিল, তারা নিজেরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারায় ইসলাম ধর্মে এসে  মহান রবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আপনার পূর্বপুরুষ হয়তোবা এখনো নিজের ভুল না বুঝতে পেরে ভিন্ন ধর্মে প্রভাবিত হয়ে রয়েছে এবং আপনাকে প্রভাবিত করেছে। এখন আপনি নিজেও যদি নিজের ভুল বুঝতে না পারেন তাহলে অনন্ত অসীম কাল জাহান্নামের আগুনে পুড়তে হবে।মহান রব আমাদের প্রতিটা প্রিয় পাঠককে সঠিক বুঝ দান করুক আমিন।

Thanks For Comment we are reply soon as possible.

Previous Post Next Post