ইসলাম শুধু মুসলমানদের ধর্ম নয়, এটা বিশ্বের
সমগ্র মানব ও জিনজাতির ধর্ম। এখন আপনার মনে প্রশ্ন হতে পারে তাহলে পৃথিবীতে এত ধর্ম
কোথায় হতে আসলো? এই প্রশ্নটার সঠিকভাবে বুঝতে হলে আপনাকে ধর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত
জানতে হবে। ধর্ম শব্দের অর্থ কি? ভারতীয় দর্শন অনুযায়ী সাধারণ ভাষায়, ধর্ম মানে
"সঠিক জীবনযাপনের পথ" এবং "সঠিকতার পথ"। বিজ্ঞানের ভাষায় ধর্ম
হলো স্বভাব এবং ইসলামের ভাষায় ধর্ম হলো স্রষ্টার প্রেরিত বিধি-বিধান বা সংবিধান, যে
নিয়ম কানুন আইন প্রতিটি মানব ও জিনজাতিকে মেনে চলা এবং বিশ্বাস করা বাধ্যতামূলক। ধর্ম
সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা আল কুরআনে বলেন: 'নিশ্চয় আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য ধর্ম
একমাত্র ইসলাম' (সূরা আলে-ইমরান-১৯)। কোরআনের পরিভাষায় 'দ্বীন' সেসব মূলনীতি ও বিধিবিধানকে
বলা হয় যা হযরত আদম আঃ থেকে শুরু করে মুহাম্মদ সাঃ পর্যন্ত সব নবী ও রাসুলগণের মধ্যে
সমভাবেই বিদ্যমান রয়েছে। এতে বোঝা যায়, সব নবীর দ্বীনই এক ও অভিন্ন ছিল।
পৃথিবীতে এত ধর্ম কোথায় হতে আসলো? এখন এই
প্রশ্নটা নিয়ে আলোচনা করা যাক: মহান আল্লাহতায়ালা মানবজাতিকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য
যখনই কোন নবী-রাসূলগণকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন, তখনই পৃথিবীর ক্ষমতাশীল ব্যক্তিবর্গ
নবী রাসূলগণকে নিয়ে টাট্টা মশকারি করতেন এবং তাদের মনঃপূত না হলে অহংকার এবং দাম্ভিকতার সাথে তাদের পরিহার
করতেন। ইতিহাস পড়লে দেখবেন অনেক অহংকার এবং দাম্ভিক বাদশা নবী-রাসূলগণদের সাথে যুদ্ধ
করেছেন এবং অনেক সময় অনেক নবী রাসুলগণকে হত্যাাও করেছেন। যুগে যুগে অধিকাংশই নিম্নবিত্ত
ও অত্যাচার নির্যাতিত হওয়া মানুষ সর্বপ্রথম আল্লাহর দ্বীনের প্রতি বিশ্বাস এনেছেন।
তাদের সকলের ধারণা ছিল নিশ্চয়ই আল্লাহর
সঠিক পথ দেখাবেন এবং তাদের বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করবেন। নবী-রাসূলগণ আল্লাহর দয়া এবং
দিকনির্দেশনায় দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতেন। কিন্তু নবী রাসূলগণ যখনই ইন্তেকাল করেছেন এবং
তাদের ইন্তেকালের পর সেই ধর্মগুলোকে মানুষ নিজের ইচ্ছা মত বিকৃতি করতেন এবং ইচ্ছামতো
কিতাবগুলো আয়াত পরিবর্তন করতেন। যেটা খুবই একটি মন্দ কাজ, তারা নিজেদের লোভ-লালসা
কায়েস পূরণ করার জন্য কিতাবগুলোর পরিবর্তন ঘটাত, মহান আল্লাহ তা'আলা আল কুরআনে বলেন
(হে আহলে কিতাব (ঐশীগ্রন্থধারীরা)! তোমরা কেন সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত কর এবং জেনে-শুনে
সত্য গোপন কর? সূরা আল ইমরান আয়াত (৭১)
যার ফলস্বরূপ মন আল্লাহ তায়ালা বিকৃত ধর্মগ্রন্থকে
বাতিল ঘোষণা করে পুনরায় হেদায়েত স্বরূপ নতুন নবী-রাসূলগণকে প্রেরণ করতেন। পৃথিবীতে
একই সময়ে একাধিক নবী-রাসূল দ্বীনের কাজ পরিচালনা করেছেন। পুরাতন ধর্মগ্রন্থগুলো বিকৃত
হওয়ার ফলে পৃথিবীতে নতুন আসমানী গ্রন্থ নাযিল হতো। মহান আল্লাহ তায়ালা একই ধর্মকে
নবায়ন করতেন। কিন্তু মানুষ অহংকার এবং দাম্ভিকতার সহকারে আল্লাহর সত্য বাণীকে প্রত্যাখ্যান
করে, তারা তাদের নিজেদের ইচ্ছা মতো যা রচনা করেছে এবং বিকৃতি ঘটিয়েছে তার অনুসারী
হয়ে শয়তানের পথ অনুসরণ করে। এভাবেই এই পৃথিবীতে অনেক ধর্মের বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে।
নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রধান শত্রু, শয়তান
মানুষকে যে কোন মন্দ কাজ করার জন্য শুধুমাত্র মানুষকে ইন্ধন দিতে পারে। ক্ষমতাসীন ব্যক্তিবর্গ
সবসময় অহংকারী এবং দাম্ভিকতার সহকারে মহান আল্লাহ তায়ালার মনোনীত ধর্মকে পরিত্যাগ
করে নিজেরা নিজেদের ইচ্ছামত নতুন নতুন ধর্মের বিভাজন তৈরি করেছেন।
