চরিত্র মানুষের জীবনের অন্যতম বড় সম্পদ। এটি এমন এক স্ববৈশিষ্ট্য যা আমাদের শিক্ষা, পরিবার ও পরিবেশের উপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে। কেউ জন্মসূত্রে ধনী বা গরিব হতে পারে, ভালো বা খারাপ পরিবারের সন্তান হতে পারে—কিন্তু চরিত্রের গুণ বা দোষ সেই জন্মসূত্রে নির্ধারিত হয় না। বরং তা তৈরি হয় নিজের চেষ্টায়, নৈতিকতা রক্ষায়, সত্যবাদিতায় এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সততার চর্চায়।
অনেক সময় আমরা দেখি, সু-সমৃদ্ধ, শিক্ষিত পরিবারের সন্তানও খারাপ চরিত্রের কারণে সমাজে অপদস্থ হয়, নিজের জীবন ধ্বংস করে ফেলে। আবার এর বিপরীতে, দরিদ্র বা খারাপ পরিবেশে বেড়ে ওঠা কোনো ব্যক্তি নিজের পরিশ্রম, সত্যবাদিতা ও নৈতিকতার মাধ্যমে সমাজে সম্মান অর্জন করে, উত্তম মানুষ হিসেবে পরিচিত হয়। এখানেই বোঝা যায়—চরিত্রই আসল পরিচয়, পারিবারিক প্রেক্ষাপট কেবল একটি প্রাথমিক ভিত্তি মাত্র।
চরিত্র বিনষ্ট হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো মিথ্যা ও গোপন পাপ। মিথ্যা কথা মানুষকে ধীরে ধীরে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, আর গোপন পাপ তাকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে। বাইরের রূপ সুন্দর হলেও অন্তরের অন্ধকার তাকে অমানুষে পরিণত করে। একজন চরিত্রহীন ব্যক্তি সমাজে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে, কারণ সে বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা এবং অশুভ কাজ করতে পিছপা হয় না।
অতএব, সত্যবাদিতা, নৈতিকতা এবং পবিত্রতা ধরে রাখা প্রতিটি মানুষের প্রধান দায়িত্ব। চরিত্রকে সঠিক পথে গড়তে হলে প্রয়োজন সৎ শিক্ষা, পরিবারে নৈতিক দিকনির্দেশনা এবং একটি সুস্থ পরিবেশ। আমরা যদি চাই সমাজ উন্নত হোক, তবে প্রতিটি মানুষকে প্রথমেই নিজের চরিত্র গঠনে সচেষ্ট হতে হবে। কারণ চরিত্রবান মানুষই সমাজের সম্পদ এবং জাতির ভবিষ্যতের ভিত্তি। © Delowar Hossen