জীবনে উত্তম জীবনসঙ্গীর প্রয়োজনীয়তা আমরা সকলেই অনুভব করি। জীবনসঙ্গী একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, যার ওপর জীবনের সুখ-শান্তি অনেকাংশে নির্ভরশীল। তবে উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়া কেবল আমাদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না; বরং এটি মহান আল্লাহর ইচ্ছা ও রহমতের ফল। আল্লাহ তাআলা যদি ইচ্ছা করেন, তাহলে কেউ তা বাধা দিতে পারবে না। তাই এই মহান অনুগ্রহের জন্য তাঁর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে জীবন পরিচালনা করাই আমাদের কর্তব্য।
মহান আল্লাহর শেখানো দোয়া
জীবনে উত্তম জীবনসঙ্গী লাভের জন্য মহান আল্লাহ তাআলা কোরআনে বান্দাদের দোয়া শিখিয়েছেন। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য দোয়া হলো:
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ: "রাব্বি ইন্নি লিমা আনযালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফকির"।
অর্থ: "হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ পাঠাবে, আমি তার মুখাপেক্ষী।"
(সূরা আল-কাসাস: ২৪)
এই দোয়া পড়ে হযরত মুসা (আ.) মহান আল্লাহর রহমতে জীবনসঙ্গী ও আশ্রয় লাভ করেন। এটি আমাদের জীবনে উত্তম জীবনসঙ্গী লাভের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমল হতে পারে।
চক্ষু শীতলকারী জীবনসঙ্গী ও সন্তানের দোয়া
কোরআনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া উল্লেখিত হয়েছে, যা আল্লাহর প্রিয় বান্দারা পড়ে থাকেন:
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
উচ্চারণ: "রাব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আয়ুনিঁওয়া জা‘আলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা"।
অর্থ: "হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন, যারা আমাদের চোখের শীতলতা হবে এবং আমাদেরকে মুত্তাকিদের নেতা বানিয়ে দিন।"
(সূরা ফুরকান: ৭৪)
এই দোয়া প্রত্যেক নামাজের শেষ বৈঠকে পড়ে আমল করলে আশা করা যায়, আল্লাহ তাআলা আমাদের চোখ জুড়ানো জীবনসঙ্গী ও সন্তান দান করবেন।
পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে ইসলামের নির্দেশনা
ইসলাম জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। প্রিয় নবী (সা.)-এর হাদিসে উল্লেখিত হয়েছে:
১. দ্বীনদারিত্বকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিন
“নারীকে চারটি কারণে বিয়ে করা হয়: তার সম্পদ, বংশমর্যাদা, রূপ, এবং দ্বীনদারিত্ব। হে মুমিন! তুমি দ্বীনদার নারীকে বিয়ে করো, এতে তুমি সফল হবে।” (সহিহ বুখারি: ৫০৯০)
২. দ্বীনদার পাত্র-পাত্রী নির্বাচন করুন
“যার দ্বীনদারী ও চরিত্রে সন্তুষ্ট, এমন কারো প্রস্তাবে বিয়ে সম্পন্ন করো। তা না করলে পৃথিবীতে ফেতনা ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে।” (জামে তিরমিজি: ১০৮৪)
৩. পরহেজগার জীবনসঙ্গী দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদ
“পুরো দুনিয়াটাই সম্পদ। এর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম সম্পদ হলো একজন পরহেজগার স্ত্রী।” (সহিহ মুসলিম: ৩৭১৬)
কেন দ্বীনদার জীবনসঙ্গী প্রয়োজন?
দ্বীনদার জীবনসঙ্গী একজন মানুষকে আল্লাহর পথে চলতে সাহায্য করে। দ্বীনদার সঙ্গীর সান্নিধ্যে একজন মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি হয়। অন্যদিকে, দ্বীন থেকে দূরে থাকা সঙ্গী জীবনে অশান্তি ও অস্থিরতা আনতে পারে। তাই, ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে যে দ্বীনদারিত্বই পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের প্রধান মাপকাঠি হওয়া উচিত।
উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়ার জন্য করণীয়
১. আল্লাহর কাছে দোয়া করুন
মহান আল্লাহর শেখানো দোয়াগুলো নিয়মিত পড়ুন এবং তাঁর রহমতের জন্য আবেদন করুন।
২. নেক আমল করুন
আল্লাহর আদেশ মেনে চলুন এবং গুনাহ থেকে বাঁচুন। দ্বীনদার জীবনসঙ্গী পাওয়ার জন্য নিজের জীবনও দ্বীনদার হতে হবে।
৩. প্রত্যাশার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করুন
সৌন্দর্য, সম্পদ, কিংবা বংশমর্যাদার চেয়ে চরিত্র ও দ্বীনদারিত্বকে অগ্রাধিকার দিন।
জীবনসঙ্গী নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা জীবনের বাকি সময়টাকে সুখী ও সার্থক করতে পারে। দ্বীনদার জীবনসঙ্গী পেতে হলে আল্লাহ তাআলার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে হবে এবং তাঁর শেখানো দোয়া ও আমল অনুসরণ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দ্বীনদার ও আদর্শ জীবনসঙ্গী দান করুন। আমিন।