আমাদের সমাজে অনেকে দ্বীনদার না হলেও দ্বীনী পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে চান। ছেলের বাবা-মা চান দ্বীনদার মেয়ে আনতে, মেয়ের পরিবার চায় দ্বীনদার পরিবারে মেয়ে দিতে। আবার অনেক ছেলে-মেয়ে নিজ ইচ্ছায় দ্বীনী পরিবারে যুক্ত হতে চায়। এর পেছনে উদ্দেশ্য যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি এর সঠিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতি থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বীনদার পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হওয়া মানে শুধু একটি নামকাওয়াস্তে সম্পর্ক নয়, বরং এর মাধ্যমে দ্বীনী পরিবেশ থেকে নিজেদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুফল লাভ করা।
দ্বীনী পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা
একটি দ্বীনদার পরিবার ইসলামের আদর্শ জীবনযাপনের একটি উত্তম প্রতিচ্ছবি। এ ধরনের পরিবারে বাচ্চাদের চরিত্র, আচরণ, এবং চিন্তাভাবনা দ্বীনী শিক্ষার আলোকে গড়ে ওঠে। ইসলামের পরিপূর্ণতার কারণে তাদের মধ্যে মানবিক গুণাবলীর বিকাশ ঘটে।
তবে এক্ষেত্রে একটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ—দ্বীনদারী একটি যৌথ প্রচেষ্টা। একপক্ষের ওপর সম্পূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে আরেক পক্ষ নিজেদের অবহেলায় ডুবলে সমস্যার সৃষ্টি হয়।
বাস্তব অভিজ্ঞতার শিক্ষা
দুইটি উদাহরণ এখানে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
- প্রথম পরিবার: দ্বীনদার মেয়েকে বিয়ে করেও একটি পরিবার তার ধর্মীয় মূল্যবোধ ধরে রাখতে পারেনি।
- দ্বিতীয় পরিবার: সহশিক্ষা স্কুলে সন্তানদের পড়াতে গিয়ে ধর্মীয় পরিবেশ হারিয়ে ফেলেছে।
এ অভিজ্ঞতাগুলো থেকে বোঝা যায়, শুধু দ্বীনদার মেয়ে বা ছেলে বিয়ে করাই যথেষ্ট নয়; বরং নিজ পরিবারে দ্বীনী পরিবেশ তৈরির আন্তরিকতা থাকতে হবে।
কোরআন-হাদিসের আলোকে দিকনির্দেশনা
কোরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
"পবিত্র নারীগণ পবিত্র পুরুষদের উপযুক্ত এবং পবিত্র পুরুষগণ পবিত্র নারীদের উপযুক্ত।" (সূরা নূর: ২৬)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"তোমরা তোমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে উত্তম নারীদের গ্রহণ কর।" (সুনানে ইবনে মাজাহ)
এ ধরনের আয়াত ও হাদিস থেকে শিখি, পরিবার গঠন এবং দ্বীনদার সন্তানদের গড়ে তোলা একটি বড় দায়িত্ব।
নেক সন্তান: বাবা-মায়ের বরকত
নেক সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান নিয়ামত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
"ধন, ঐশ্বর্য এবং সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা।" (সূরা কাহাফ: ৪৬)
অন্যত্র তিনি বলেন:
"যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন।" (সূরা শূরা: ৪৯-৫০)
নেক সন্তান বাবা-মায়ের দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"মানুষ মৃত্যুর পর তিনটি আমল ছাড়া সব বন্ধ হয়ে যায়: সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা উপকারে আসে, এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।" (সহীহ মুসলিম)
নেক সন্তান গড়তে করণীয়
১. সন্তানের জন্য দোয়া করা: সন্তানকে নেক বানানোর জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করুন।
২. দ্বীনী শিক্ষার ব্যবস্থা: ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে দ্বীনী পরিবেশে গড়ে তুলুন।
৩. নিজেদের চরিত্রের উন্নতি: সন্তানরা বাবা-মায়ের চরিত্র থেকে প্রভাবিত হয়, তাই নিজেদের দ্বীনদার করে তোলার চেষ্টা করুন।
৪. শিক্ষা ও অনুশীলন: সন্তানদের শুধু ইসলামিক জ্ঞান নয়, বরং সেই জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগের শিক্ষাও দিন।
দ্বীনদার পরিবারে বিয়ে করা এবং নেক সন্তান গড়ার ইচ্ছা অত্যন্ত মহৎ। তবে এর জন্য শুধু ইচ্ছাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন যোগ্যতা, আন্তরিকতা এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি। নিজেদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দ্বীনদার বানানোর জন্য এখন থেকেই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে দ্বীনদার পরিবার গঠনের তৌফিক দান করুন এবং আমাদের সন্তানদের নেক বানান। আমিন।