ভাগ্য ভাল যে আল্লাহ জান্নাতের সার্টিফিকেট বিতরণের অধিকার কাউকে দেননি!

মুসলিম সমাজে একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি—তা হলো কিছু ব্যক্তির নিজের ধারণাকে একমাত্র হক বলে জাহির করা এবং অন্যদের অবজ্ঞা করা। আল্লাহর অশেষ রহমত যে, জান্নাতের সার্টিফিকেট কাউকে প্রদান করার ক্ষমতা তিনি একচেটিয়া ভাবে নির্দিষ্ট কারও হাতে দেননি। যদি এমনটি হতো, তবে হয়তো অনেক সাধারণ মুসলমান "হক্কের ডিলারদের বোধগম্য আকিদা"র অভাবে জাহান্নামে চলে যেতেন, শুধু এই "আকিদাওয়ালা হক্কের ডিলারদের" সার্টিফিকেট না থাকার কারণে।

নিজেদের "বিশুদ্ধ আকিদা"র দাবিতে অন্যদের অবজ্ঞা

এদের মতে, তারা যা জানে এবং বোঝে সেটাই একমাত্র হক। তাদের চিন্তার বাইরের সবকিছু বাতিল এবং অগ্রহণযোগ্য। এই মানসিকতা শুধু একটি ধর্মীয় বিভ্রান্তি নয়, বরং একটি সামাজিক সমস্যা। সাধারণ মুসলমানদের এরা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে, তাদের প্রতি কোনো হিকমা বা সদ্ব্যবহার প্রদর্শন করে না। অথচ হিকমা ও সদাচরণই হলো ইসলামের মূল সৌন্দর্যের একটি অংশ।

একচোখা মানসিকতার ফলাফল

এই একচোখা মানসিকতা মুসলমানদের মাঝে হিংসা, বিদ্বেষ এবং বিভাজন তৈরি করেছে। মুসলিম সমাজের মধ্যে ঐক্যের অভাব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলস্বরূপ, আমরা একটি শক্তিশালী উম্মাহর পরিবর্তে বিভক্ত এবং দুর্বল হয়ে পড়ছি। ঐক্যের কথা বললে, এরা নিজেদের "বেশি জানলে ওলা" বা "আকিদাওলা" মনে করে দাবি করে যে ঐক্য সম্ভব নয়। অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা কুরআনে বারবার ঐক্যের নির্দেশ দিয়েছেন।

নিজেদের দ্বৈত নীতির উদাহরণ

এই শ্রেণির মানুষের দ্বৈত নীতির চিত্র অতি পরিচিত। বিভিন্ন স্বৈরাচারী শাসকের প্রতি তাদের চাটুকারিতা এবং ক্ষমতার লোভ আমাদের সামনে পরিষ্কার। এমনকি তাদের মধ্যে অনেককে ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের "আম্মা" ডাকতেও দেখা গেছে। অথচ তারা নিজেদেরকে "হক্বের মানদণ্ড" মনে করে সাধারণ মানুষের ওপর কড়া সমালোচনা চালায়।

বিভেদ সৃষ্টি নয়, ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন

আজ মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো এই ধরনের বিভেদ সৃষ্টিকারী মানসিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। আমাদের মনে রাখতে হবে, ইসলামের মূল শিক্ষা হলো এক আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ, একে অপরের প্রতি সদাচরণ, এবং উম্মাহর ঐক্য।

আমাদের করণীয়

১. হিকমা এবং সদ্ব্যবহার: ইসলামের প্রচারে এবং সাধারণ মুসলমানদের সাথে আচরণে হিকমা প্রয়োগ করতে হবে।
২. ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা: মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের বীজ বপন করতে হবে।
৩. অহংকার থেকে দূরে থাকা: নিজের জ্ঞান বা আমলের জন্য অহংকার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৪. কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ: বিভেদের পরিবর্তে কুরআন ও সুন্নাহকে নিজেদের জীবনের মূল ভিত্তি বানাতে হবে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করুন, বিভেদের পরিবর্তে ঐক্যের পথে চলার তৌফিক দিন। ইসলামের নামে বিভাজন সৃষ্টি না করে, দীন প্রতিষ্ঠার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানোর সামর্থ্য দিন। আল্লাহ আমাদের মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে আসুন। আমিন!


Thanks For Comment we are reply soon as possible.

Previous Post Next Post