শবে বরাতের বিষয়ে আল কুরআন এবং সুন্নাহ অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্টভাবে উল্লেখিত আমল বা নির্দেশনা নেই। তবে, এ রাতে যেসব কাজ করা হয়, তাদের বেশিরভাগই সাধারণ ইবাদত (যেমন: নফল সালাত, দোয়া, তাওবা ইত্যাদি) হিসেবে অনুমোদিত, এবং এগুলো ইসলামে বৈধ।
শবে বরাতের ফযিলত:
শবে বরাতের ফযিলতপূর্ণ হওয়া সম্পর্কিত কিছু হাদিস রয়েছে, তবে এগুলোর সনদ ও বিশুদ্ধতা নিয়ে ইসলামী স্কলারদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কিছু হাদিস সহীহ, আবার কিছু দুর্বল। উদাহরণস্বরূপ, সহীহ হাদিসে এসেছে যে, আল্লাহ তায়ালা এই রাতে তাঁর বান্দাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন এবং বিশেষভাবে ক্ষমা করেন, তবে মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত।
তবে, শবে বরাতের জন্য বিশেষ কোনো ইবাদত বা আমল নির্ধারিত নেই, যেমন বিশেষ সালাত, গোসল, হালুয়া-রুটি ইত্যাদি। এ ধরনের কিছু প্রথা ইসলামি শরীয়তে বিদ'আত (নতুন উদ্ভাবিত ধর্মীয় আচরণ) হিসেবে গণ্য হয়, এবং এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
আল কুরআন এবং সুন্নাহ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত:
শবে বরাতের কোনো নির্দিষ্ট আমল সুন্নাহতে নির্ধারিত নেই।
সাধারণ নফল ইবাদত করা (যেমন: নফল সালাত, দোয়া, তাওবা, দরুদ পাঠ) এই রাতে বৈধ এবং এটি উত্তম।
বিশেষ কোনো রীতি বা প্রথা (যেমন: গোসল, হালুয়া-রুটি ইত্যাদি) ইসলামিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এগুলো কোনো সুন্নাহ ভিত্তিক কর্মকাণ্ড নয় এবং এগুলোর প্রতি ইসলামে কোনো নির্দেশনা নেই
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে শবে বরাত পালনের কোনও নির্দিষ্ট প্রথা বা বিশেষ আমল ছিল না। এটি একটি সাধারণ রাত হিসেবে গণ্য করা হত, যেখানে মুসলমানরা সাধারণ ইবাদত যেমন সালাত, দোয়া, যিকর, তাওবা ইত্যাদি করতেন। তবে, শবে বরাতের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ইবাদত বা প্রথা রাসূল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়নি।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
শবে বরাতের বিশেষ আমল: মুহাম্মদ (সা.) এর যুগে শবে বরাতের জন্য কোনো বিশেষ সালাত বা গোসলের মতো নির্দেশনা ছিল না। যদি কোনো ব্যক্তি শবে বরাতের রাতে নফল সালাত পড়ত বা দোয়া করত, তবে তা সাধারণ নফল ইবাদত হিসেবে গণ্য হতো, যেটি তিনি বা তাঁর সাহাবীরা সাধারণত যে কোনো রাতে পালন করতে পারতেন।
এ রাতের ফযিলত সম্পর্কে হাদিস: কিছু হাদিসে শবে বরাতের ফযিলত উল্লিখিত হয়েছে, যেমন আল্লাহ তায়ালা এই রাতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি রহমত পাঠান এবং অনেককে ক্ষমা করেন (সহীহ ইবনে হিব্বান)। তবে, রাসূল (সা.) এই রাতে কোনো বিশেষ আমল বা অনুষ্ঠান পালন করতে নির্দেশ দেননি। বরং তিনি সাধারণত তার সাহাবীদের শাবান মাসের মধ্যে বেশি রোযা রাখার প্রতি উৎসাহিত করতেন (সহীহ মুসলিম)।
মুহাম্মদ (সা.) এর যুগে "শবে বরাত" পালন: মুহাম্মদ (সা.) নিজে এবং তার সাহাবীরা শবে বরাতের রাতে সাধারণ ইবাদত করতেন, তবে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম বা নিয়মিত অনুষ্ঠান পালন করা হত না। তারা সাধারণত সারা মাসে বেশি নফল রোযা রাখতে এবং রাতের ইবাদত করতে উৎসাহিত হতেন।
শবে বরাতের জন্য কোনো ঐতিহাসিক রীতি না থাকা: সাহাবী, তাবে'ঈন বা তাবে'তাবে'ঈনদের যুগেও শবে বরাত পালনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট রীতি বা বিশেষ আমল পালন করা হয়নি। যেটি বর্তমানে বিভিন্ন অঞ্চলে পালিত হয়, তা মূলত পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংস্কৃতিগত প্রভাবের কারণে এসেছে।
শবে বরাতের পালনের শুরু সম্পর্কে ইসলামী ইতিহাসে স্পষ্টভাবে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা সময় উল্লেখ নেই। তবে, এটি ইসলামি ইতিহাসে পরবর্তী সময়ে কিছু সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং কিছু বিশেষ মতাদর্শের কারণে একটি সাধারণ আমল হিসেবে প্রচলিত হয়ে ওঠে।
শবে বরাতের ইতিহাস:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে: মুহাম্মদ (সা.) এর যুগে শবে বরাতের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বিশেষ আমল বা অনুষ্ঠান পালন করা হত না। যদিও কিছু হাদিসে এই রাতে আল্লাহ তায়ালার রহমত বর্ষণ এবং বান্দাদের ক্ষমা করার কথা উল্লেখ রয়েছে, তবে রাসূল (সা.) বা সাহাবীরা কোনো নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান বা আচার-প্রথা পালন করতেন না।
শবে বরাতের প্রচলন পরবর্তী সময়ে: শবে বরাতের পালন শুরু হয় মূলত তাবে'ঈন এবং পরবর্তীকালের যুগে, যখন মুসলমানরা বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করতে শুরু করেন এবং স্থানীয় সংস্কৃতির প্রভাবের কারণে এই রাতে বিশেষ ইবাদত, সালাত, দোয়া, তাওবা ইত্যাদির ওপর জোর দেওয়া শুরু হয়। তবে, এটি মূলত কোনো ইবাদত হিসেবে জনপ্রিয়তা পায় পরবর্তী সময়ে, ইসলামের প্রথম কয়েক শতক পরে।
শবে বরাতের নামকরণ এবং প্রচলন: শবে বরাতের নাম "বারাআত" থেকে এসেছে, যার মানে "মুক্তি" বা "রক্ষা"। এটি এমন একটি রাত হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে যেখানে মুসলমানরা তাদের গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য দোয়া ও তাওবা করতেন। তবে, এর বিশেষ নামকরণ এবং কিছু স্থানীয় রীতির প্রচলন পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে বাড়তে থাকে।