বর্তমান বিশ্বে মিডিয়ার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম কোনো বিষয়কে প্রচার করতে পারে এবং একই সঙ্গে কোনো বিষয়কে আড়াল করতেও পারে। বিশেষ করে ইসলাম ও মুসলিমদের ক্ষেত্রে মিডিয়ার দ্বৈত নীতি স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। যখন কোনো মুসলিম ব্যক্তি সহিংস কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তখন সঙ্গে সঙ্গে তাকে "জঙ্গি" বা "সন্ত্রাসী" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। অথচ ইতিহাস সাক্ষী, বিশ্বে সবচেয়ে বড় বড় গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে অমুসলিম শাসক ও রাষ্ট্রগুলো। তাদের কখনোই "খ্রিস্টান সন্ত্রাসী" বা "হিন্দু সন্ত্রাসী" বা "বৌদ্ধ সন্ত্রাসী" বলা হয়নি।
ইতিহাসের নির্মম সত্য: গণহত্যাকারীরা কি মুসলিম ছিল?
হিটলার: জার্মানির নাজি নেতা অ্যাডলফ হিটলার প্রায় ৬০ লাখ ইহুদি হত্যা করেছিল। সে একজন খ্রিস্টান ছিল, কিন্তু মিডিয়া তাকে কখনো "খ্রিস্টান টেরোরিস্ট" বলেনি।
জোসেফ স্ট্যালিন: সোভিয়েত ইউনিয়নের এই স্বৈরশাসক ২০ মিলিয়ন (২ কোটি) মানুষ হত্যা করেছিল এবং আরও ১৪.৫ মিলিয়ন মানুষ দুর্ভিক্ষ ও দমন-পীড়নের ফলে ধুঁকে ধুঁকে মারা গেছে। কিন্তু কখনো কি তাকে "খ্রিস্টান টেরোরিস্ট" বলা হয়েছে?
মাও সেতুং: চীনের কমিউনিস্ট নেতা ১৪ থেকে ২০ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছিল। মিডিয়ায় তার পরিচয় শুধুই একজন রাজনৈতিক নেতা, কখনোই তাকে "বৌদ্ধ টেরোরিস্ট" বলা হয়নি।
বেনিতো মুসোলিনী (ইতালি): এই ফ্যাসিস্ট নেতা ৪ লাখ মানুষ হত্যা করেছিল, কিন্তু মিডিয়া তাকে কখনো "খ্রিস্টান টেরোরিস্ট" বলেনি।
সম্রাট অশোক: ভারতের এই শাসক কালিঙ্গ যুদ্ধের সময় ১ লাখ মানুষ হত্যা করেছিল। কিন্তু কি আশ্চর্য! মিডিয়ায় তাকে কখনো "হিন্দু টেরোরিস্ট" বলা হয়নি।
জর্জ ডব্লিউ বুশ: ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। তারপরও কেউ কি তাকে "খ্রিস্টান টেরোরিস্ট" বলেছে?
মিয়ানমারের বৌদ্ধ সরকার: রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর এখনও চলমান গণহত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাট চলছে। কিন্তু কোনো আন্তর্জাতিক মিডিয়া কি বৌদ্ধদের "সন্ত্রাসী" বলেছে?
বড় বড় যুদ্ধ কে শুরু করেছিল?
মুসলিমদের প্রতি সন্ত্রাসবাদের তকমা দেওয়ার আগে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে দেখা উচিত:
☑ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮) শুরু করেছিল কারা? – অমুসলিমরা।
☑ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-১৯৪৫) শুরু করেছিল কারা? – অমুসলিমরা।
☑ হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা ফেলেছিল কারা? – অমুসলিমরা।
☑ অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের ২০ মিলিয়ন হত্যা করেছিল কারা? – অমুসলিমরা।
☑ উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার ১৫০ মিলিয়ন রেড ইন্ডিয়ানদের হত্যা করেছিল কারা? – অমুসলিমরা।
☑ ১৮০ মিলিয়ন আফ্রিকান কালো মানুষকে দাস বানিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে নিক্ষেপ করেছিল কারা? – অমুসলিমরা।
মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যপূর্ণ আচরণ
মিডিয়ার আসল সমস্যা হলো, যখন কোনো অমুসলিম কোনো সহিংস কাজ করে, তখন সেটাকে "ব্যক্তিগত অপরাধ" হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু যখন কোনো মুসলিম একই ধরনের কাজে লিপ্ত হয়, তখন সেটাকে "সন্ত্রাসবাদ" বলে আখ্যায়িত করা হয়।
🔴 একজন খ্রিস্টান বন্দুকধারী যদি শত শত মানুষ হত্যা করে, মিডিয়া বলে – সে মানসিক ভারসাম্যহীন।
🔴 একজন মুসলিম যদি আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র তুলে নেয়, মিডিয়া বলে – সে মৌলবাদী, জঙ্গি!
এই দ্বৈত নীতি আসলে কী বোঝায়? এটি বোঝায়, বিশ্বব্যবস্থা পরিচালিত হয় একপেশে নীতির ভিত্তিতে। ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ তৈরি করাই হচ্ছে মূল লক্ষ্য।
মিডিয়ার পক্ষপাতিত্ব বন্ধ হোক
বিশ্বের ইতিহাস সাক্ষী, সবচেয়ে বড় গণহত্যাগুলোর পেছনে অমুসলিম শাসক ও রাষ্ট্রগুলোর হাত রয়েছে। অথচ মুসলিমদের শুধু প্রতিবাদের কারণে "জঙ্গি" বলা হয়। এই বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে।
📢 বিশ্বের বুদ্ধিজীবীদের কাছে আমাদের প্রশ্ন:
✅ মুসলিমদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে "সন্ত্রাসবাদ" শব্দ ব্যবহার করা কি ন্যায়সঙ্গত?
✅ কেন অমুসলিমদের গণহত্যাকে কখনোই "সন্ত্রাসবাদ" বলা হয় না?
✅ আসলে "সন্ত্রাসবাদ" বলতে কী বোঝানো হয় – সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নাকি শুধু মুসলিম হওয়া? সময় এসেছে বাস্তবতা বোঝার! সত্য প্রকাশের!