মধ্যপ্রাচ্যের বিলাসিতা বনাম ফিলিস্তিনের কান্না

 মধ্যপ্রাচ্যের বিলাসিতা বনাম ফিলিস্তিনের কান্না: মুসলিম বিশ্ব কি আজও নিঃশব্দ সহযাত্রী?

কিছুদিন পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য সফরে সৌদি আরব, কুয়েত ও আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি আরব রাষ্ট্র ভ্রমণ করেন। তার এই সফরকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যে বিলাসবহুল ও জমকালো আয়োজন করেছে, তা বিশ্ববাসী বিস্ময়ের চোখে দেখেছে। তাকে স্বাগত জানাতে মিলেছে সোনা-রুপার তোরণ, রাষ্ট্রীয় নৃত্য, রাজকীয় ভোজ এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের চুক্তি।

কিন্তু এই সব আয়োজনের মাঝে চাপা পড়ে গেছে ফিলিস্তিনের কান্না, গাজার ধ্বংসস্তূপ, এবং সেখানে না খেয়ে মৃত্যুবরণ করা শিশুদের আর্তনাদ। 

একই সময়ে যখন ফিলিস্তিনের গাজায় খাদ্য, পানি, ওষুধের চরম সংকটে হাজার হাজার মানুষ অনাহারে ভুগছে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাষ্ট্রগুলো আমেরিকার সাথে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্য চুক্তি করছে। অথচ সবাই জানে—ফিলিস্তিনের উপর চলমান বর্বরতার পেছনে প্রধান মদতদাতা হলো ইসরাইল, আর ইসরাইলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাষ্ট্র।

মুনাফিক নেতৃত্ব ও দ্বিমুখী নীতি:

গোপন সূত্রে জানা যায়, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরবসহ অনেক মুসলিম দেশই আজ যুক্তরাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় থেকে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে গোপনে সম্পর্ক স্থাপন করেছে। কেউ কেউ প্রকাশ্যেই স্বীকৃতি দিয়েছে, কেউ আবার নীরব সমর্থন দিয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করছে।

এই দ্বিমুখী নীতিই আজ মুসলিম বিশ্বকে দুর্বল করেছে। একদিকে মুসলিম উম্মাহর নামে কথা বলে, অন্যদিকে একই হাত দিয়ে দান করে দিচ্ছে সেইসব শক্তিকে যারা মুসলিম জাতিকে ধ্বংসে মত্ত।

নিরীহ মুসলমানদের রক্তে রঞ্জিত ইতিহাস:

ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন, এবং সর্বশেষ গাজা—এইসব মুসলিম রাষ্ট্রে শত শত বোমা বর্ষিত হয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। এই হত্যাকাণ্ডগুলোতে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। অথচ এই সব হত্যাকারী রাষ্ট্রের সঙ্গে আরব রাষ্ট্রগুলোর মিলনমেলা অব্যাহত রয়েছে।

একটি দুঃখজনক বাস্তবতা:

আজ মুসলিম বিশ্বে একতা নেই, নেই ন্যায়-অন্যায়ের স্পষ্ট চেতনা। যারা নিজেদের ইসলাম ধর্মের রক্ষক দাবি করে, তারা আজ ধন-সম্পদের লোভে, ক্ষমতার মোহে, বিলাসিতার নেশায় পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের চাটুকারিতে মত্ত। আর এর মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মুসলমানদের—যারা গাজায়, কাশ্মীরে, রোহিঙ্গা শিবিরে, চীনে, ভারতের মুসলিম ঘেটোতে আজ নিপীড়িত, নির্যাতিত।

সমাধানের পথ?

সমাধান একটাই—উম্মাহর মধ্যে সত্যিকারের ঐক্য গড়ে তোলা, ভণ্ড নেতাদের মুখোশ উন্মোচন করা, ইসলামী ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্বকে প্রতিষ্ঠা করা এবং ফিলিস্তিনসহ সকল নির্যাতিত মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানো।

আমাদের বুঝতে হবে, বিলাসিতা আর প্রটোকলের পেছনে ছুটে গিয়ে আমরা ইসলামী আত্মাকে বিকিয়ে দিচ্ছি। দুনিয়ার সাময়িক সুখের জন্য আমরা আখিরাতের চিরস্থায়ী শান্তিকে বিসর্জন দিচ্ছি।

পরিশেষে বলি:

 যদি আজ আমরা চুপ থাকি, কাল আমাদের ওপরই আসবে এই নির্মম বাস্তবতা। আজ ফিলিস্তিন, কাল হয়তো আমরা। এখনই সময় জেগে ওঠার—হৃদয়ে ঈমানের দীপ্তি নিয়ে, হাতে ন্যায়ের তলোয়ার তুলে সত্য ও অসত্যের ফারাক স্পষ্ট করার। © Delowar Hossen

Thanks For Comment we are reply soon as possible.

Previous Post Next Post