পতিতাবৃত্তি বৈধতার দাবিতে নারীবাদীদের সোচ্চার

 পতিতাবৃত্তি বৈধতার দাবিতে নারীবাদীদের সোচ্চারতা ও বৈবাহিক সম্পর্কের ওপর হামলা—এ কোন ‘অধিকারবাদের’ চেহারা?

নারীর অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় নারীবাদ একটি ক্ষতিকর সামাজিক চিন্তাধারা হিসেবে বিকশিত হচ্ছে, বর্তমানে নারীবাদী গোষ্ঠীর কার্যক্রম ও দাবিদাওয়া সমাজে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে। তারা আজ এমন কিছু দাবি করছে, যা একদিকে সমাজের নৈতিক ও পারিবারিক ভিত্তিকে ভেঙে দিচ্ছে, অন্যদিকে ধর্মীয় নীতিকেও প্রকাশ্যে উপহাস করছে। 

১. পতিতাবৃত্তি কি পেশা, না সমাজ ধ্বংসের রাস্তা?

আজকের কিছু তথাকথিত নারীবাদী দাবি করছেন—যে নারী নিজের শরীর বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে চান, তিনি সেটা করতে পারেন। এটাই নাকি তার ‘পছন্দের স্বাধীনতা’। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ব্যক্তির স্বাধীনতা কি সমাজের মৌলিক মূল্যবোধকে নস্যাৎ করার লাইসেন্স হতে পারে?

যুক্তিগুলো যাচাই করা যাক—

যদি পতিতাবৃত্তি ‘পেশা’ হয়, তাহলে এর একমাত্র উপাদান হলো মানবদেহের বাণিজ্যিক ব্যবহার। অন্য যেকোনো পেশা জ্ঞান, শ্রম বা সেবার মাধ্যমে মূল্য প্রদান করে। কিন্তু পতিতাবৃত্তি মানুষকে পণ্যে রূপান্তর করে।

একে ঘিরেই গড়ে ওঠে মানব পাচার, শিশু নির্যাতন, যৌন নির্যাতন ও অপরাধ জগৎ।

পতিতাবৃত্তি একবার বৈধ হলে, সমাজে যৌনাচারের অবাধ ছড়াছড়ি হয়, যা পরিবারব্যবস্থাকে ভেঙে দেয়, নবীনদের চরিত্র বিকৃত করে, এবং অনৈতিকতাকে সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

বস্তুত, পতিতাবৃত্তি একজন নারীর অধিকার নয়—এটা এক ধরনের সামাজিক শোষণ, যেখানে নারীর দেহকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। যারা পতিতালয়ের বৈধতা চায়, তারা আসলে নারীর মর্যাদা নয়—ব্যবসার স্বাধীনতা চায়।

২. বৈবাহিক সম্পর্কেও ধর্ষণ—সীমাহীন স্বাধীনতার বিপদজনক প্রয়োগ

শাহবাগীরা বলছে—“স্ত্রী যদি ইচ্ছা না করে, আর স্বামী জোর করে সম্পর্ক করে, তাহলে তা ধর্ষণ।” বিষয়টি এর ভয়ংকর সামাজিক ও আইনি প্রভাবগুলো ভেবে দেখা দরকার।

যুক্তিগুলো অনুধাবন করা যাক—

বিয়ের অর্থই হলো পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্ব। শুধু দেহগত সম্পর্ক নয়, মানসিক, আবেগিক ও ধর্মীয় বন্ধন।

ধর্ষণ একটি অপরাধ, যার মধ্যে থাকে হুমকি, জোরজবরদস্তি, এবং অপমান। কিন্তু বিবাহিত জীবনে অনেক সময় মান-অভিমান, আবেগ ও সম্পর্ক উন্নয়নের প্রয়োজনে একপক্ষের অনিচ্ছার মধ্যেও শারীরিক সম্পর্ক হয়—তাতে ভালোবাসারও অভিব্যক্তি থাকে।

স্বামী-স্ত্রীর স্বাভাবিক যৌনজীবনে ‘ধর্ষণ’ শব্দ প্রয়োগ করলে পুরুষদের ওপর ভুল অভিযোগের ঝুঁকি বাড়ে, ফলে তারা বিয়ে ও পরিবার জীবন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

এটি একটি সামাজিক ফাঁদ , যেখানে একজন স্ত্রী যদি স্বামীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতে চান, তাহলে এই অভিযোগ তার অস্ত্র হয়ে দাঁড়ায় এবং পরিবার ব্যবস্তা ধ্বংস হয়ে যাবে।

অন্যদিকে, যারা পতিতাবৃত্তিকে পেশা মনে করে, তারা বিয়ের মতো একটি পবিত্র সম্পর্ককে বিকৃত করে তুলছে।

৩. মূল উদ্দেশ্য: পরিবার ব্যবস্থার ধ্বংস ও শরীরকেন্দ্রিক সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠা

আজকের তথাকথিত আধুনিকতা এমন একটি চিন্তাধারা তৈরি করছে যেখানে পরিবার, শালীনতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, আত্মসংযম—সবকিছুকেই ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। তারা চায়,

পুরুষ যেন বিয়ে না করে, বরং অর্থ দিয়ে শরীর কিনুক

নারী যেন সংসার না করে, বরং শরীর বিক্রি করে টাকা আয় করুক

সন্তান যেন পিতৃপরিচয় ছাড়া জন্ম নিয়ে একটি ‘নষ্ট সমাজে’ বেড়ে উঠুক

এই চিন্তা ইসলাম তো দূরে থাক, যেকোনো মানবিক, নৈতিক ও সংস্কৃতিবান সমাজের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে।

৪. ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি: ভারসাম্য ও মর্যাদার শিক্ষা

ইসলাম নারীকে কেবল স্ত্রী বা মা হিসেবে সীমাবদ্ধ করেনি—বরং তাকে দিয়েছে পূর্ণ মর্যাদা, সম্মান ও অধিকার। ইসলাম বলে,

"তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্রস্বরূপ।" – সুরা বাকারা: ২২৩

এখানে কোনো দাসত্ব নেই, আছে দায়িত্ব, প্রেম, পারস্পরিক সম্মান। ইসলামে স্ত্রীকে অসম্মান করা যেমন হারাম, তেমনি স্বামীকেও অবজ্ঞা করা অবাধ্যতা।

আজ প্রয়োজন একটি সুস্থ বিতর্ক, যেখানে আমরা মানবিকতা, নৈতিকতা এবং ধর্মীয় জ্ঞানের আলোকে অধিকার আর সীমালঙ্ঘনের পার্থক্য বুঝে নেব। পতিতাবৃত্তিকে বৈধতা দেওয়া বা বৈবাহিক সম্পর্ককে ধর্ষণ বলে চালানো, কোনোটাই নারী কিংবা সমাজের কল্যাণ বয়ে আনবে না—বরং তা মানবতা ধ্বংসের ইঙ্গিতমাত্র।

Thanks For Comment we are reply soon as possible.

Previous Post Next Post