গণরায়ের প্রতি সম্মান: রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন

 

যে বিধানের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, ঠিক সেই একই সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই গণভোট আয়োজন করা হয়েছে। ফলে এই গণভোটের ফলাফল নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি সরাসরি জনগণের মতামতের প্রতিফলন।

এখন যদি কোনো রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিএনপি, এই গণরায়কে অস্বীকার করে বা তা থেকে সরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে তা জনগণের চোখে একটি বড় ধরনের অবিশ্বাসের জন্ম দেবে। জনগণ তখন তাদের ‘জাতীয় বেইমান’ হিসেবেই বিবেচনা করবে—এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়, বরং রাজনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন।

ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, যারা জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে, তারা দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না। জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা কখনো স্থায়ী হয়নি। বরং এর ফল হয়েছে উল্টো—অস্থিরতা, প্রতিবাদ এবং শেষ পর্যন্ত পতন।

যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এমন কেউ আসে, যার ওপর জনগণের আস্থা প্রশ্নবিদ্ধ, তখন গণরায়কে হালকাভাবে নেওয়া বা উপহাস করা নতুন কিছু নয়। এটি এক ধরনের মানসিকতা—যেখানে জনগণের মতামতকে গুরুত্বহীন ভাবা হয়। কিন্তু এই মনোভাবই শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিএনপির উচিত অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া। ইতিহাসে স্বৈরাচারী শাসকদের পরিণতি সুখকর হয়নি—এটা সুস্পষ্ট। জনগণ কখনো অন্যায়কে দীর্ঘদিন সহ্য করে না। তাই ক্ষমতায় গেলে যেন তারা আবার সেই একই ভুলের পথে না হাঁটে, সে বিষয়ে এখন থেকেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

কারণ একটি সত্য চিরন্তন—জনগণই ক্ষমতার প্রকৃত উৎস। তারা যেমন ক্ষমতা দেয়, তেমনি অন্যায় দেখলে সেই ক্ষমতা কেড়ে নিতেও পিছপা হয় না। প্রয়োজন হলে তারা আবার প্রতিবাদে নামবে, আবার স্বৈরাচার উৎখাত করবে।

ইতিহাসের এই পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হলে আজই গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

Thanks For Comment we are reply soon as possible.

Previous Post Next Post