আমাদের এই রাষ্ট্রে আল্লাহপ্রদত্ত অগণিত প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে—তেল, গ্যাস, কয়লা, খনিজসহ আরও বহু মূল্যবান সম্পদ। এই সম্পদগুলো একটি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য যথেষ্ট। তবুও বাস্তবতা হলো, আমরা আজও এই সম্পদগুলো সঠিকভাবে উত্তোলন ও ব্যবহারে সক্ষম হইনি।
প্রশ্ন হলো—কেন পারছি না?
কারণগুলো খুবই স্পষ্ট। প্রথমত, দক্ষ জনশক্তির অভাব আমাদের অন্যতম বড় সীমাবদ্ধতা। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পদ উত্তোলনের জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ, যা এখনো পর্যাপ্ত নয়। দ্বিতীয়ত, সরকারের কার্যকর সদিচ্ছার ঘাটতি অনেক ক্ষেত্রেই উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। তৃতীয়ত, প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পাশাপাশি, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবও অনেক সময় আমাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণকে দুর্বল করে দেয়।
একটি দেশের উন্নতির মূল শক্তি তার নিজস্ব সম্পদ। কিন্তু আমরা সেই শক্তিকে কাজে লাগানোর পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে দুর্বলতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছি। যে দেশে নিজস্ব তেল ও গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে, সেই দেশকেই আজ বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করতে হয়—এটি শুধু দুঃখজনক নয়, বরং আমাদের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতারও প্রতিচ্ছবি।
কথা ছিল—আমরা নিজেদের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানি করব। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আমরা এখনো আমদানিনির্ভর। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব, তবে তার জন্য প্রয়োজন বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ।
প্রথমত, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি সক্ষম কর্মশক্তি তৈরি করা জরুরি।
দ্বিতীয়ত, সরকারের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে—দেশীয় ও বৈদেশিক সহযোগিতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
তৃতীয়ত, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দুর্নীতি ও অপচয় কমে আসে।
চতুর্থত, দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাধীন ও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আমাদের সম্পদ আমাদেরই। এই সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
সময় এসেছে—
পরনির্ভরশীলতা থেকে বের হয়ে
নিজের পায়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর।