জামাত কওমি আকিদার দন্ড পর্ব ১

 জামাত কওমি আকিদার দন্ড পর্ব ১: আকিদার দ্বন্দ্ব শেষ করে নিজেরা সিদ্ধান্ত নিন—আগামীর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় আপনার ভূমিকা কী হবে। আজকের পোস্টটি অতি গুরুত্বপূর্ণ; চিন্তাশীল, বিশ্বাসী মুমিন মুসলমানদের জন্য। সময় নিয়ে পড়বেন সকলে। শেষ জামানায় উপমহাদেশের ইসলামি রাজনৈতিক ও খেলাফত প্রতিষ্ঠায় মুসলমানদের করণীয় কী কী—তা আলোচনা করা হয়েছে।

ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে, বিশেষ করে চার খলিফার যুগ শেষ হওয়ার পর থেকেই ইসলাম তার ছন্দ হারিয়েছে। যুগে যুগে আবার কিছু সৎ ও দক্ষ নেতার হাত ধরে ইসলাম তার নিজস্ব ছন্দের সৌন্দর্য দেখিয়েছে।

ইসলাম সবচেয়ে বেশি ২টি কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রথমত, ইসলামের খেলাফত প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রগুলো ধ্বংস হওয়ার কারণ ছিল নিজেদের মধ্যে অনৈক্য ও ক্ষমতার মসনদ নিয়ে দ্বন্দ্ব। দ্বিতীয়ত হলো মুনাফেক চরিত্রের লোকদের ষড়যন্ত্র এবং ইসলামবিরোধী শক্তির মদদপুষ্ট ষড়যন্ত্র। এই বিষয়টি বাংলাদেশের বর্তমান ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে।

জামায়াতকে চাপে রাখতে হেফাজতসহ অন্যান্য ইসলামি দলগুলোকে হাসিনা রাজনৈতিক ময়দানে কিছুটা স্পেস দিয়ে রেখেছিল এবং দলগুলোর জন্য একটি সীমানা নির্ধারণ করা ছিল—তারা কোন বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কতটুকু পারফরম্যান্স করতে পারবে। জামায়াত আপস করেনি, তাই জামায়াতের উচ্চপদস্থ নেতাদের জেল, ফাঁসি ও নিত্যদিনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

মামুনুল হক মাঝে মাঝে গর্জন দিতেন; তাকেও নারী কেলেঙ্কারিতে ফাঁসিয়ে জেলে দেওয়া হয়। এমনভাবে যে, যে হুজুরই একটু বেশি সরকারবিরোধী কথা বলত, তাকেই জেলে বন্দি করা হতো। ইসকন সংগঠনের সদস্য ও প্রশাসনের মাধ্যমে পাশবিক নির্যাতন চালানো হতো; না হয় জায়গা হতো আয়নাঘরে।

ফলে চরমোনাইয়ের পীর সাহেব মাঝেমধ্যে হাসিনাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে কথা বলতেন। একদিন পীর সাহেব মোদিকে তুলোধুনো করে কথা বললেন।

প্রতিক্রিয়ায় হাসিনা শুধু একটি মাত্র বাক্য খরচ করলেন, আর এতেই পীর সাহেবের জবান বন্ধ হয়ে গেল। হাসিনা শুধু বললেন, “চরমোনাইয়ের পীর জামায়াতের ভাষায় কথা বলছে।” ব্যাস! পীর সাহেবের জবান বন্ধ।

যে কোনো সংগঠনই কেউ স্বার্থের ঊর্ধ্বে নয়। জামায়াত তো নয়ই, অন্য বাকি দলগুলোও নয়। জামায়াত কখনোই তার নিজস্ব মৌলিক কাঠামো থেকে সরে এসে অন্য কাউকে বেশি স্পেস দেয় না। যেমন—তাদের যদি ক্ষমতা কিংবা কোটি টাকার লোভও দেখানো হয়, তারপরও তারা হাসিনার সঙ্গে আপস করেনি।

অন্যদিকে, “কওমি জননী”, “দুইশো বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও সমস্যা নেই”, “আওয়ামী লীগ হয়ে গেলেও আপত্তি নেই”—এ ধরনের হেফাজতে ইসলামের বক্তব্য সকলেরই জানা। একদিকে প্রতি বছর তথাকথিত “মওদূদীবাদের” স্বরূপ উন্মোচন, অন্যদিকে শাহবাগী, বাম-নাস্তিক ও শাহরিয়ার কবিরদের হাতে ছিল ’৭১-এর ভয়াবহ চেতনা; আর পীর-হেফাজতপাড়ায় ছিল কথিত “আকিদা” মিসাইল। বাম শাহবাগী আর ডান মৌলবাদীদের কর্মপন্থা ভিন্ন, কিন্তু উদ্দেশ্য এক—“জামায়াত ঠেকাও”।

“আকিদা” ও ’৭১-এর চেতনা—দুটোকেই ভারতীয় ন্যারেটিভ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে, আর ডান ও বাম উভয়পক্ষই এর সুফলভোগী অভিনেতা। এই ন্যারেটিভ দাঁড় করিয়ে ভারত গত ৫২ বছর ধরে এদেশকে শাসন ও শোষণ করছে।

’৭১-এর প্রশ্নে কেবল জামায়াতকেই দায়ী করা হয়। অথচ ইসলামপন্থীরা কেউই চায়নি পাকিস্তান ভেঙে ভারতের তাবেদার রাষ্ট্র গঠন হোক। আর এটাই স্বাভাবিক। আমিও একজন মুসলিম চিন্তাবিদ হিসেবে ইসলামের একটি ভূখণ্ড ভাগ করার পক্ষে থাকতে পারি না। কিন্তু পাকিস্তানিরা যেহেতু অত্যাচারী ও জুলুমবাজ হয়ে উঠেছিল, তাই জুলুমের ফলেই ইসলামের ভূখণ্ড ভাগ হয়ে গেছে। ইসলামপন্থীরা অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে ছিল—এটাই বাস্তবতা।

আর বড় কথা হলো, জামায়াত ১৯৪৭ সালেও দেশভাগ চায়নি। কারণ কী জানেন? জামায়াত বিশ্বাস করত, দেশভাগ হলে ভারতের মুসলিমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং অত্যাচারী হিন্দুদের হাতে অন্যায় নির্যাতনের শিকার হবে। বর্তমানে বাস্তবেও তাই হয়েছে। ভারতের মুসলিমরা এখন এক মহাবিপদের সময় পার করছেন। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ও আফগানিস্তান মিলিয়ে আমরা হিন্দুদের জনসংখ্যার সমান। অর্থাৎ, ভারতের মুসলিমদের করুণ অবস্থার জন্য আমরাও দায়ী। আমরা নিজেরাই আমাদের ভাইদের উগ্র হিন্দুদের হাতে একা ফেলে রেখে আলাদা ভূখণ্ডে নিরাপদে বসবাস করছি।

এটা জামায়াত কখনোই চায়নি। কতটা বিচক্ষণ দল হলে তারা দেশভাগের বিরোধিতা করতে পারে! অথচ তারা ভালো করেই জানত, এই বিরোধিতার কারণে পাকিস্তান গঠনের পর জামায়াত তেমন জনপ্রিয়তা পাবে না। পাকিস্তান ভাগের সময়ও তারা সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। কিন্তু দেশভাগ না চাওয়াটাই জামায়াতের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই জামায়াত রাজনৈতিকভাবে ডানপন্থী ও বামপন্থীদের রোষানলের শিকার। দেশের জনগণও তাদের ভালো চোখে দেখেনি, কারণ জামায়াতের চিন্তাধারা মূলত মুসলিম ঐক্য ও ভূখণ্ড বিভক্তির বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে।

এ থেকে এটা স্পষ্ট যে, জামায়াত যেকোনো বিনিময়েই হোক মুসলিম ঐক্য ও ভূখণ্ডকে বেশি গুরুত্ব দেয়। আমিও জামায়াতের এই চিন্তাধারাকে সমর্থন করি যে, যেকোনো মূল্যে আমাদের মুসলিম ঐক্য ও ভূখণ্ড ধরে রাখতে হবে। এটা সকল মুসলমানের জন্য ফরজ বিধান ছিল। কিন্তু মুসলমান আর ইমানদার মুমিন, তাও আবার সূক্ষ্ম জ্ঞানের অধিকারী—কয়জনই বা হয়? তাই মুসলিম ঐক্য ও ভূখণ্ড সব ভাগ হয়ে গেল।

তাহলে বর্তমানে একা জামায়াত দায়ী কেন? এই প্রশ্নের সোজা জবাব হলো—অন্যান্য ইসলামি দলগুলোকে বাতিল শক্তি থ্রেট মনে করছে না; বরং সহায়ক শক্তি হিসেবেই পাচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তুরাগ তীরে তাবলিগ জামায়াতের লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। সরকার ওষুধপত্রসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করে এবং কঠোর নিরাপত্তা প্রদান করে।

কিন্তু যদি ওই ময়দান থেকে একবার আওয়াজ তোলা হয় যে, “এ দেশে ইসলামী হুকুমাত কায়েম করতে হবে”, তাহলে পরের বছরই তাবলিগ জমায়েত নিষিদ্ধ হয়ে যাবে এবং তাবলিগের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে।

হেফাজতের শাপলা চত্বরে ১৩ দফার মধ্যে এক দফা ছিল রাজনৈতিক। এরপর হাসিনা ম্যাসাকার চালিয়ে দিল। হেফাজত চলে গেল হাসিনার হেফাজতে। এগুলো শুধু উদাহরণ হিসেবে বলা হলো। হেফাজতের এত বড় ম্যাসাকারের পরও তারা হাসিনার সঙ্গে আপস করতে বাধ্য হয়েছে।

কিন্তু জামায়াতে ইসলামী? ১৮-২০ বছর জেল-জুলুম, নির্যাতন, ফাঁসি, বাড়িঘরে বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া—সবকিছুর পরও জামায়াত তার অবস্থানেই অটল।

বাতিল শক্তি চায়—হয় তাদের সহযোগী হতে হবে, নতুবা ইসলামপন্থীরা শুধু আকাশের ওপরে এবং জমিনের নিচে (কবর) নিয়ে কথা বলবে। কিন্তু জমিনের ওপর (ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা) নিয়ে কথা বলার দুঃসাহস দেখালেই জেল-জুলুম ও ফাঁসির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। জামায়াতকে নিয়ে ’৭১ ও আকিদার প্রশ্নে একটি পোস্টমর্টেম রিপোর্ট মোটা দাগে তুলে ধরা হলো।

মজার বিষয় হলো, জামায়াতের সঙ্গে কওমি আলেমদের চারটি ইসলামি দল আছে। এই চারটি দলকে জামায়াত ছাড়ার জন্য হেফাজতের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিএনপির সঙ্গে জোট করে আছে কওমি আলেমদের কয়েকটি দল—এখানে কোনো সমস্যা নেই। কারণ, জামায়াতের সঙ্গে হেফাজত কিংবা কট্টরপন্থী আকিদার দোহাই দেওয়া দলগুলো জোট করতে গেলে সমমানের ইসলাম নিয়ে নিজেদের অতিরিক্ত আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না এবং তাদের মধ্যে কিছু মতানৈক্য থাকে।

অপরদিকে, বিএনপির সঙ্গে তাদের জোট করতে সমস্যা হয় না। কারণ, সেখানে তারা নিজেদের মতো করে ধর্মীয় আধিপত্য বিস্তার করতে পারে, যা জামায়াতের সঙ্গে জোটে সম্ভব হয় না। তাই জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে কওমিপন্থী দলগুলোর মূল সমস্যা আকিদাগত ও নেতৃত্বকেন্দ্রিক।

অনেকে মনে করতে পারেন, আমি কি কওমিবিদ্বেষী? না, আমি নিজেও কওমির লেখাপড়া ও দ্বীনচর্চার বিষয়গুলো অনুসরণ করি। কিন্তু তাদের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে মৌলিক বিষয়গুলো প্রয়োজন, সেগুলোতে তারা এখনো পুরোপুরি পরিপক্ক নয়।

অন্যদিকে, জামায়াত মূলত জেনারেল শিক্ষিত ইসলামপন্থীদের নিয়ে গঠিত। তাদের মাঝে দ্বীনচর্চার ঘাটতি বা ইসলামিক কঠোরতার সমালোচনা থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনৈতিক শাসনকার্যে তারা তুলনামূলকভাবে বেশি পরিপক্ক।

আমি সবসময় চাই, এই দুই ধারার মত ও আদর্শ এক হোক। তাহলে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিচালনা করা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই দুই দলের মধ্যে সম্পর্ক এখন সাপ-নেউলের মতো। তাই এ দেশে ইসলামি দলগুলোর ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা খুবই কম।

আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে জামায়াত সমর্থক হয়েও সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি কওমিঘরানার কোনো মেয়েকে বিয়ে করার, যাতে অন্তত নিজের মধ্যে হলেও কওমি-জামায়াত দ্বন্দ্বটা কিছুটা হলেও অবসান ঘটে। এটা আমার নিজের ব্যক্তিগত ও মানসিক প্রস্তুতি—তাদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব কমানোর একটি প্রয়াস।

কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, কওমিঘরানার আদর্শে অনেকেই জেনারেল ইসলামিকদের মুমিন মনে করবে তো দূরের কথা, মুসলমানই মনে করে না। অনেকে কূফু জুজুর ভয় দেখায়। তারা জেনারেল ইসলামিস্টদের অযোগ্য মনে করেন।

সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে জেনারেল ইসলামিস্ট ও কওমি পাত্র-পাত্রীর মধ্যে একে অপরের আত্মীয়তা বৃদ্ধি করার। এতে একে অপরের মধ্যে মানসিক ও সামাজিকভাবে সম্পর্ক তৈরি হবে এবং দ্বীনের পূর্ণতাও আসবে।

এই দেশে জামায়াত ও কওমি এক না হলে রাজনৈতিকভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। কারণ, জামায়াত ও কওমিকে সমর্থন করে এমন মুসলিমের সংখ্যা প্রায় ৮-১০ কোটি। কিন্তু কেউ কাউকে সমর্থন না দেওয়ায় দুনিয়ালোভী দলগুলো রাজনৈতিক সামর্থ্য অর্জন করে। আর তারাও চায়, জামায়াত-কওমি দ্বন্দ্ব সারাজীবন চলতে থাকুক।

বর্তমান পরিস্থিতিও এর সাক্ষ্য বহন করে। বিএনপি চায় হেফাজতে ইসলামকে ব্যবহার করে জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল ও বিতর্কিত করতে। এর মূল উৎস হলো ভারত। ভারতের মাস্টারপ্ল্যানেই আওয়ামী সরকার তাবলিগকে দুই ভাগে বিভক্ত করতে সক্ষম হয়েছে—এটাই তার জ্বলন্ত উদাহরণ।

এখন বড় সমস্যা হলো জামায়াতকে নিয়ে। কারণ, জামায়াত একটি ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতি করছে, তাও আবার অনেক জেনারেল ইসলামিস্টকে সঙ্গে নিয়ে।

অন্যদিকে, বিএনপি সরাসরি ঘোষণা দিয়েছে যে তারা ইসলামী শরিয়া বা ইসলামী আইন বিশ্বাস করে না। এ কথা বলার পর কেউ আর মুসলিম থাকতে পারে না। পুরো হেফাজত আওয়ামী লীগ বা বিএনপি হয়ে গেলে সমস্যা নেই—ওটা জায়েজ। কিন্তু কেউ জামায়াত করলে তাদের সমস্যা; ওটা নাজায়েজ, হারাম!

জালেম, ইসলামবিদ্বেষী এবং ইসলামিক রাষ্ট্র গঠনের শত্রু দুনিয়াপন্তি দলগুলো বিএনপি ও আওয়ামী লীগের আকিদা ভালো, জামায়াতের আকিদা খারাপ—বহুত খারাপ। এটাকেই বলে আকিদা আর চেতনা ব্যবসা!

বাস্তবতায় এই জন্য মুসলিম সমাজে বিভিন্ন মত ও ঘরানার মধ্যে দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে জামায়াত ও কওমি ঘরানার মধ্যে যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, তা অনেক সময় দ্বীনের বৃহত্তর স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।

দ্বীন প্রতিষ্ঠা কোনো একক দলের কাজ নয়, বরং এটি একটি সম্মিলিত দায়িত্ব। মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু সেই মতপার্থক্য যেন ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বিভাজনের কারণ না হয়—এটাই মূল শিক্ষা।

জামায়াত ও কওমি—উভয় ধারারই রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, অবদান ও সমাজে প্রভাব। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ এবং ভুল বোঝাবুঝি দূর করা।

যদি আমরা সত্যিই দ্বীন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখি, তাহলে প্রথম শর্ত হলো ঐক্য। কারণ বিভক্ত শক্তি কখনোই বড় লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না।

অতএব আহ্বান থাকবে—মতভেদ থাকলেও তা যেন শত্রুতায় না রূপ নেয়। আলোচনা, সহনশীলতা এবং বোঝাপড়ার মাধ্যমে একটি সম্মিলিত অবস্থান তৈরি করা জরুরি, যেখানে লক্ষ্য হবে একটাই—দ্বীনের কল্যাণ ও সমাজের শান্তি।

না হলে বিভাজন থেকেই যাবে, আর তার দায়ভার সবাইকেই কোনো না কোনোভাবে বহন করতে হবে।

Thanks For Comment we are reply soon as possible.

Previous Post Next Post