মুসলিম পরিচয়: শুধু জন্মে, নাকি বিশ্বাস ও আনুগত্যে?
আজকাল একটি প্রশ্ন বারবার মনে আসে—যে ব্যক্তি মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়েও ইসলামের সুস্পষ্ট বিধানকে প্রকাশ্যে অস্বীকার করে, ইসলামের ফরজ বিধান নিয়ে উপহাস করে, কিংবা ইসলামের আদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, সে কি শুধুমাত্র জন্মসূত্রেই মুসলিম পরিচয়ের দাবিদার?
যে নারী মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়ে ইসলামের পর্দার বিধানকে প্রত্যাখ্যান করে এবং মানুষকে তা অমান্য করার আহ্বান জানায়, কিংবা যে ব্যক্তি ইসলামের সুস্পষ্ট বিধানকে অবজ্ঞা করে স্লোগান দেয়—তাদের অবস্থান নিয়ে আত্মসমালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। মুসলিম পরিচয় কি কেবল একটি পারিবারিক পরিচয়, নাকি এটি ঈমান, বিশ্বাস, আনুগত্য এবং আল্লাহর বিধানের প্রতি আত্মসমর্পণের নাম?
ইসলাম কখনোই শুধু নাম, বংশ বা সংস্কৃতির পরিচয় নয়। ইসলাম অর্থই হলো আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ। একজন মুমিনের পরিচয় তার ঈমান, আমল এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর প্রতি আনুগত্যে প্রকাশ পায়।
ভাবুন, সেই মহান নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ, যাঁর মাধ্যমে মানবজাতি হিদায়াতের আলো পেয়েছে, ইসলামের দাওয়াত প্রতিষ্ঠার পথে কত কষ্ট সহ্য করেছেন। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করেছেন, উহুদের যুদ্ধে তাঁর মুবারক দাঁত শহিদ হয়েছে, মক্কার নির্যাতনের কারণে হিজরত করতে হয়েছে, তায়েফে পাথরের আঘাতে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে। ইসলামের জন্য তিনি ও তাঁর সাহাবায়ে কিরাম অকল্পনীয় ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
তাহলে আমরা কীভাবে মনে করি যে, শুধুমাত্র মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া, মুসলিম সমাজে বেড়ে ওঠা বা কিছু সাংস্কৃতিক পরিচয় ধারণ করলেই জান্নাত নিশ্চিত হয়ে যাবে? ইসলামে মুক্তির শর্ত হলো ঈমান, তাওহীদ, আন্তরিক তওবা, নেক আমল এবং আল্লাহর রহমত। কেবল জন্মগত পরিচয় কোনো মানুষের চূড়ান্ত পরিণতির নিশ্চয়তা দেয় না।
তবে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি মুসলিম আছে কি নেই, বা কে জান্নাতে যাবে আর কে যাবে না—এই চূড়ান্ত ফয়সালা মানুষের নয়; এটি একমাত্র আল্লাহ তাআলার এখতিয়ার। আমাদের দায়িত্ব হলো নিজেকে সংশোধন করা, ইসলামের সঠিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া এবং হিকমত, উত্তম উপদেশ ও সুন্দর চরিত্রের মাধ্যমে মানুষকে সত্যের পথে আহ্বান করা।
আসুন, আমরা মুসলিম পরিচয়কে কেবল একটি জন্মগত পরিচয় হিসেবে নয়, বরং ঈমান, তাকওয়া, আমল এবং আল্লাহর বিধানের প্রতি আন্তরিক আনুগত্যের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করি। কারণ কিয়ামতের দিন আমাদের পরিচয় হবে আমাদের বংশ বা নাম দিয়ে নয়, বরং আমাদের ঈমান ও আমলের ভিত্তিতে।