দিন দিন আমাদের সমাজে একটি অসুস্থ সংস্কৃতি গড়ে উঠছে। মেয়ে-মেয়ের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক কিংবা ছেলে-ছেলের মধ্যে অশোভন আচরণ অনেক ক্ষেত্রে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমার কাছে প্রায় সময় এমন কিছু মানুষের কেইস স্টাডি আসে , যাদের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল সাধারণ বন্ধুত্ব দিয়ে। প্রথমে ‘আপনি’ থেকে ‘তুই’, তারপর বন্ধুত্বের নামে অতিরিক্ত আবেগী সম্বোধন—‘জান’, ‘কলিজা’, ‘পাখি’ ইত্যাদি। এরপর মেসেঞ্জারে গ্রুপ খুলে দীর্ঘ সময় আলাপ-আলোচনা চলতে থাকে।
ধীরে ধীরে সেই আলোচনা অনুপযুক্ত ও অশালীন বিষয়ে গড়ায়। এক পর্যায়ে এসব কথাবার্তার প্রতি এমন আসক্তি তৈরি হয় যে, বাস্তব জীবনের স্বাভাবিক সম্পর্ক, দায়িত্ব ও ইবাদতের প্রতি আগ্রহ কমে যেতে থাকে এবং আস্তে আস্তে ঈমান নষ্ট হওয়া শুরু করে।
ছেলে ছেলেদের মধ্যে জামাই বউ সাজে, মেয়ে মেয়েদের মধ্যে জামাই বউ সাজে এবং অশ্লীল চ্যাটিং করে, এক সময় তারা এই সবে আসক্ত হয়ে যায়, শুরুর দিক দিয়ে অনেকে এটাকে বিনোদন হিসাবে নেই কিন্তু তারা জানে না তারা কোন অশ্লীলতার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
তাদের মধ্যেই একজন ছিলেন বিবাহিত নারী। এই আসক্তির কারণে ধীরে ধীরে তার সংসার ও স্বামীর প্রতি আগ্রহ কমে যায়। শেষ পর্যন্ত তার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। আজ তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন প্রায় মানসিক রোগীর মত হয়ে গেছেন,তার এইসব ছাড়া এখন ভালো লাগেনা জীবনকে অন্ধকার মনে হয়।
এক সময় তিনি নিয়মিত নামাজ পড়তেন, দ্বীনি বই অধ্যয়ন করতেন, ইসলামী বিষয় নিয়ে লিখতেন এবং নিজের সন্তানকে দ্বীনের পথে গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন। কিন্তু একটি ভুল পদক্ষেপ তাকে সেই পথ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে তার সন্তানের জীবনেও। মানসিক চাপ, হতাশা ও অনুশোচনায় তার জীবনের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও প্রশান্তি অনেকটাই হারিয়ে গেছে।
তাই ভাই ও বোনদের প্রতি অনুরোধ—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগ ও ভালোবাসার অতিরিক্ত প্রকাশ থেকে সতর্ক থাকুন। শয়তান কখন, কোন পথ দিয়ে মানুষের জীবনে প্রবেশ করে ক্ষতি করবে, তা অনেক সময় কল্পনাও করা যায় না। নিজের ঈমান, চরিত্র, পরিবার ও ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখুন।
— উম্মাহ এলার্ট