গত পনেরো বছরে আওয়ামী লীগের যত অপকর্ম হয়েছে, সেসব অপকর্মকে জমিয়তের উলামা লীগ ইসলামের শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। শাপলা চত্বর ও কওমি-সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো ধামাচাপা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যাকআপ হিসেবে জমিয়তে উলামা লীগ আওয়ামী সরকারকে সহযোগিতা করেছে।
অনেকে বলতে পারেন, দরবারি মোল্লারা কীভাবে হাসিনা সরকারের ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করল?
আসুন, একটু ব্যাখ্যা করি।
যখন হাসিনা সরকার বাংলাদেশের বড় বড় আলেমদের ফাঁসির দড়িতে ঝুলাতে শুরু করল, কিংবা মুসলিম ও আলেম সমাজের ওপর অন্যায়-অত্যাচার চালাতে শুরু করল, তখন অনেক মানুষ তাদের ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে মনে করতে শুরু করে। কিন্তু তখনই হাসিনার দরবারে কিছু দরবারি মোল্লাকে নিয়ে আসা হতো, যাতে বোঝানো যায় যে ইসলামি অঙ্গনের একটি অংশও তাদের সমর্থন করছে।
আবার অনেক সময় দেখা গেছে, কিছু দরবারি মোল্লা আবেগপ্রবণ হয়ে হাসিনাকে "মাদার অব কওমি" উপাধি দিয়েছেন। কেউ কেউ বলতে শুরু করেন, "হাসিনা আজীবন ক্ষমতায় থাকলেও সমস্যা নেই।" এ ধরনের বক্তব্য হাসিনা সরকারের ইসলাম ও আলেমবিদ্বেষের অভিযোগকে দুর্বল করেছে এবং এমন একটি ধারণা তৈরি করেছে যে সরকার ধর্মবিদ্বেষী নয়; বরং ইসলামের সেবক। কারণ, কিছু দরবারি মোল্লা প্রকাশ্যে তার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।
আমি কি কোনো ভুল বলেছি?
বর্তমানেও তারা ইসলামী সংগঠনগুলোকে বারবার বিতর্কিত করার জন্য আকিদার দোহাই দেয়। অথচ আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, তাদের নিজেদের আকিদার মধ্যেই মুনাফিকির লক্ষণ বিদ্যমান।
তারা ১১-দলীয় ইসলামী জোটকে বিতর্কিত করার জন্য জামায়াতের আকিদা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অথচ তারা নিজেরাই বিএনপির সঙ্গে জোট করেছে। প্রশ্ন হলো, বিএনপির আকিদা কি জামায়াতের চেয়ে বেশি পরিশুদ্ধ? আকিদার দোহাই দিয়ে তারা জামাতের সাথে দুর্বুদ্ধ হয় নাই কিন্তু বিএনপিকে কেন তারা পছন্দ করে?
কারণ একটাই তারা ভালো করেই জানে এদেশের দরবারী মোল্লাদের দুনিয়া লোভী শাসকগোষ্ঠী খুবই পছন্দ করে কারণ তাদের অপকর্মগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মীয় দিক থেকে বৈধতা পায় অপরদিক থেকে দরবারী মোল্লারা নিজেরা আখের গোছাতে পারে।
বর্তমানে ইসলামী জোটগুলোর জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই জনপ্রিয়তাকে কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে জমিয়তের কিছু উলামাকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এর জন্য দায়ী বাংলাদেশের দরবারি মোল্লাতন্ত্র, সুবিধাবাদী রাজনীতি এবং নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত জমিয়তে উলামা লীগ।
গত নির্বাচনে আমরা ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের অবস্থান অনেকটাই সুদৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছিলাম। কিন্তু চরমোনাই ও জমিয়তে উলামা লীগের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে আমরা বিজয়ী হতে পারিনি। একদিকে তারা বলছে জামাত গণতন্ত্র বিশ্বাসী বলে তাদের আকিদা নষ্ট, অপরদিক থেকে তারা নিজেরাই গণতন্ত্রের দরবারী মোল্লা সাজে।
মওদুদীর আকিদা নষ্ট নামে একজন ব্যক্তির নামে কত প্রকার মিথ্যা অপপ্রচার চালানো যায় তা আমি স্বচক্ষে দেখেছি তাদের কথা এবং মাওলানা মওদুদীর পাঠ্যপুস্তকের বক্তব্যের সাথে কোন প্রকার মিল পাওয়া যায় না।
আমার মতে, নিজেদের স্বার্থের জন্য তারা ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। তাদের মূল লক্ষ্য এটা নয় দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা, তারা জামাত কে আটকাতে পারলেই নিজেদের সফলতা মনে করে। জমিয়তে উলামার প্রতি আমার সতর্কবার্তা—আপনারা যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সরে না আসেন, তাহলে আপনাদের আচরণের মধ্যে আমি স্পষ্ট মুনাফিকির বৈশিষ্ট্য দেখতে পাচ্ছি।