ভারতীয় উপমহাদেশ ও গাজওয়াতুল হিন্দ পর্ব ১: হাজার বছর ইতিহাস পড়ে দেখবেন ভারতবর্ষে ৯৫% হিন্দু রাজা থেকে শুরু করে পুরোহিত ব্রাহ্মণ অত্যাচারিত ও জুলুমবাজ ছিলেন, এরা ধর্মের নামে হিন্দু প্রজাদের কত জুলুম করেছে। দেবদেবীর নামে কত সাধারণ প্রজাদের বলির পাঠা বানিয়েছে! সমাজের বর্ণ প্রথা থেকে শুরু করে স্বামী মারা গেলে তার সাথে বউদেরও পুরিমারার মতো এমন শত শত ভয়ানক কুসংস্কার সমাজে চালু ছিল।
তাদের শাসন ব্যবস্থা কতটা উগ্র ছিল সেটা বিজেপির গত সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু ভাইরাল ভিডিও দেখলে বোঝা যায়। গত কয়েক মাসে ৫শ মতো মসজিদ ধ্বংস থেকে শুরু করে কয়েক হাজার মুসলিম হত্যা ও সারা ভারতের মুসলমানদের হয়রানি ও আগ্রাসনের বিষয়গুলো এর দৃষ্টান্ত সাক্ষী। এই উগ্র হিন্দু শাসকদের হাত থেকে বাঁচার জন্য তৎক্ষণাৎ হিন্দু প্রজারা মুসলিম শাসকদের ত্রাণকর্তা মনে করতেন। বর্তমান উগ্র সন্ত্রাসী বিজেপি যা শুরু করছে ভারতবর্ষে সেই মহা যুদ্ধের আভাস দেয়।
বিজেপির অতিরিক্ত সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও রামরাজ্য প্রতিষ্ঠার গাজওয়াতুল হিন্দ যুদ্ধে সর্বশেষ পর্ব সংঘটিত হওয়ার প্রেক্ষাপট ও পটভূমি তৈরি হচ্ছে। প্রস্তুতি নিচ্ছে গেরুয়া সন্ত্রাসী বাহিনী, অন্য দিকে বাংলাদেশের মুসলমানদের করুণ অবস্থা। তারা এতটাই ইমামহারা যে সেই মহা যুদ্ধে নিজেরাই চার ভাগে বিভক্ত হবে।
১। ক্ষমতার লোভ ও গেরুয়া সন্ত্রাসী বাহিনীর উন্নত অস্ত্র থেকে এরা মুনাফিক হয়ে যাবে, অর্থাৎ এরা মুসলিম হয়েও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে, গেরুয়া সন্ত্রাসীদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করবে। এরা মনে করবে ভারতের পা চাটলে এই ভূখন্ড এরা শাসন করার দায়িত্ব দিবে গেরুয়া সন্ত্রাসী রা।
২। দুর্বল ইমান ও দুনিয়ার নেশাগ্রস্ত এরা যুদ্ধের ভূমি হতে পলায়ন করতে চাইবে। এই দুই শ্রেণির মানুষ জাহান্নামী হবে।
৩। চার ভাগের এক ভাগ মুসলিম শহিদ হবে, এদের আল্লাহ জাহান্নাম থেকে নাজাত দিবেন যদিও ইতিপূর্বে এরা অনেক পাপকর্মে লিপ্ত ছিল।
৪। একদল মুজাহিদ বাহিনী আল্লাহর উপর ভরসা করে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে ঠিক তালিবানের মতো, এরাই সর্বশেষ বিজয়ী হবে।
আল্লাহর ইচ্ছায় খুব সম্ভবত এই যুদ্ধে আমাদের মুসলমানদের সেই মহান নেতা হযরত ইমাম মাহদি (আঃ)-এর আগমনসহ এই যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার অবদান থাকতে পারে। আমি জানি না তার অবস্থান কী হবে, সবাই তাকে চিনবে নাকি নির্দিষ্ট কিছু মুমিন মুসলমানদের ব্যতীত কেউ চিনতে পারবে কিনা—এটা স্বয়ং আল্লাহ ভালো জানেন। বর্তমানে তার অবস্থান কী বা কোথায় আছেন একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ ভালো জানে না। কিন্তু আমরা এটা কিছুটা নিশ্চিত যে বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বের মুসলমানদের উপর যেভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং উগ্র হিন্দু সন্ত্রাসীরা রামরাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, আল্লাহ হয়তোবা আমাদের অগোচরেই আমাদের নেতা কে প্রস্তুতি নেওয়াচ্ছেন।
তাই বলে আমরা কি হাত গুটিয়ে বসে থাকবো? তিনি কি কোনো জাদুর কাঠি নিয়ে আসবেন? না, তা কখনোই নয়। ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো নবী-রাসুলকে দেখেছেন শ্রম, ঘাম, রক্ত না ঝরিয়ে কিংবা নিজের কঠোর পরিশ্রম ছাড়া জাদুর কাঠির মাধ্যমে সফল হয়েছেন? স্বয়ং নবী মুহাম্মদ (সা.) কি রক্ত ঝরাননি? তিনি কি একাই সব করতেন? তা কখনো হয় না। বরং একজন নবী-রাসুল বা আল্লাহর মনোনীত নেতা যখন কোনো কাজ করেন তখন আসমান থেকে সাহায্য আসে, দোয়ার বরকতে দ্বীনের পথ সহজ হয়, দক্ষ নেতৃত্বের কারণে কাফির-মুশরিকদের উপর বিজয় হয়।
তাই আমাদের সকলের উচিত উন্নত অস্ত্র তৈরি করা, মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্ক ও সামরিক জোট তৈরি করা, মুসলমানদের একে অপরের সাথে ঐক্য তৈরি করা, লোকাল সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করে প্রশিক্ষণ নেওয়া, আধা সামরিক বাহিনী তৈরি করা। অনেকে আবার গাজওয়াতুল হিন্দ যুদ্ধকে অস্বীকার করে, অনেকে বলে এটা পূর্বে হয়ে গেছে। পূর্বে যতগুলো যুদ্ধ হয়েছে সবগুলোই গাজওয়াতুল হিন্দ যুদ্ধের অংশ এবং খণ্ড যুদ্ধ, কিন্তু এখনো চূড়ান্ত যুদ্ধ হয়নি। আমার মতে ততক্ষণ পর্যন্ত কেয়ামত আল্লাহ সংঘটিত করবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত না ভারতীয় উপমহাদেশ পূর্ণাঙ্গ মুসলিম ভূমিতে পরিণত না হয়।
এবং হিন্দের ও খোরাসান ভূমি থেকে একদল মুজাহিদ ফিলিস্তিন বিজয় করার জন্য বিদ্যুতের বেগে তীব্র গতিতে ছুটে যাবে। মুসলিম উম্মাহর বিজয়ের উত্থানের সূচনা হয়েছে আফগানিস্তান বিজয়ের মাধ্যমে এবং গাজওয়াতুল হিন্দ বিজয়ের পর সর্বশেষ চূড়ান্ত ফিলিস্তিন বিজয়ের মাধ্যমে তাদের এই যাত্রা শেষ হবে এবং শুরু হতে পারে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এর যুগ।
বর্তমান বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর বয়স হয়তো আনুমানিক চার থেকে সাড়ে চার হাজার বছর পযন্ত হতে পারে ঠিকে থাকতে পারে। কিন্তু আমার মতে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার বছর পযন্ত হতে পারে, দুই হাজার থেকে পঁচিশ শত বছর পর্যন্ত হয়তোবা মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর দ্বীনকে এই পৃথিবীতে বলবৎ রাখতে পারেন। এরপর মানুষের চরিত্র এমন হবে যে এই পৃথিবী থেকে দ্বীন উঠিয়ে নেওয়া হবে। এটা কোনো চূড়ান্ত হিসাব নয়, সম্পূর্ণ বিষয় নির্ভর করে মহান আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছার উপর। কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যৎবাণী করার দুঃসাহস দেখাতে পারেন না, কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় কিছু ব্যক্তি আল্লাহর মহত্ত্ব অনুমান করতে পারেন।