রাজনীতির মঞ্চে একটি দুঃখজনক বাস্তবতা

 রাজনীতির মঞ্চে একটি দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—যারা হঠাৎ আলোড়ন সৃষ্টি করে, তারা অনেক সময় নিজের আলোতেই পুড়ে যায়। জুলাই মাসে ‘আন্দোলনের নেতা’ হিসেবে সামনে উঠে আসা এনসিপি (NCP) এখন জনগণের আস্থা হারাচ্ছে। কারণ কী? কারণ একটাই—দ্বিমুখী আচরণ এবং রাজনৈতিক অপরিপক্কতা।

একদিকে আন্দোলনের সময় তারা জামায়াত-শিবির, মাদ্রাসা ছাত্র, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আন্দোলনকারীদের ব্যবহার করেছে জনসমর্থন আদায়ে, অন্যদিকে এই শ্রেণিগুলোর প্রতিই তারা এখন অবজ্ঞা ও তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ করেছে। এটা শুধুই কৌশলগত ভুল না, এটা রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা।

"একদিন যারা ডাক দিতেই লাখো মানুষ রাস্তায় নামতো, আজ তাদের ডাকে একটা কাকও নামে না!"

এটাই রাজনীতির নির্মম বাস্তবতা। অস্থায়ী আবেগ দিয়ে রাজনীতিতে টিকে থাকা যায় না, লাগবে প্রজ্ঞা, কৌশল, ধৈর্য এবং নৈতিকতা।

এনসিপি নেতাদের অনেকেই এখনও জানেন না—

রাজনীতি মানে শুধু আন্দোলন না, রাজনীতি মানে জনসংযোগ, শ্রেণিসমূহের সাথে বিশ্বাসের বন্ধন তৈরি করা, রাজনীতি মানে ধারাবাহিকতা, এবং সবচেয়ে বড় কথা, নৈতিকতা।

“যারা আন্দোলনে মাঠে ছিল, তারা জানে কারা কাজ করেছে, আর কারা ফটোসেশন আর ফেসবুক পোস্টে সীমাবদ্ধ ছিল।”

এনসিপির বেশ কিছু নেতার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই অভিযোগ উঠেছে—কিছুদিন আগে যারা টিউশনি করিয়ে চলতো, তারা আজ গাড়ি-বাড়ির মালিক। প্রশ্ন হলো, এত অল্প সময়ে এই আর্থিক 'অগ্রগতি' কীভাবে সম্ভব? এই প্রশ্ন যখন নেতাকর্মীদের মধ্যেই ঘোরে, তখন জনসাধারণের মন থেকে বিশ্বাস উঠে যেতে বেশিক্ষণ লাগে না।

জামায়াত-শিবিরের সাথে সম্পর্ক খারাপ, কৌশল নাকি কৃত্রিম দূরত্ব?

এনসিপি জামায়াত-শিবিরকে পাশ কাটিয়ে বাম দলগুলোর মন জয় করতে চেয়েছে। কিন্তু যারা রাজনীতির ইতিহাস জানে তারা জানে—বাংলাদেশে জনভিত্তির রাজনীতি করতে হলে মাঠে পরিশ্রম করা সংগঠনের সাথে সুসম্পর্ক রাখা অপরিহার্য। বাম দলগুলো মিডিয়াতে জোরালো হলেও মাঠে তাদের উপস্থিতি শূন্যের কোঠায়। কাজেই এনসিপি যে ভুল কৌশল বেছে নিয়েছে তা আজ স্পষ্ট।

মাদ্রাসা ছাত্র ও প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের প্রতারণা: একটি বিশ্বাসঘাতকতার দলিল:

যারা আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন—মাদ্রাসা ছাত্র কিংবা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী, তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি তো দূরের কথা, তাদের সাথে আজ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে এনসিপি। এটা শুধু রাজনৈতিক ভুল নয়, এটা নৈতিক ব্যর্থতা।

আমাদের প্রস্তাব স্পষ্ট—আপনারা যদি সত্যিই দেশের জন্য কাজ করতে চান, তাহলে আগে নিজের চরিত্র ঠিক করুন। রাজনীতি করতে হলে দরকার পরিপক্কতা, রাজনৈতিক শিক্ষা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, এবং সর্বোপরি, সৎ জীবনযাপন।

রাজনীতির ডাটা কীভাবে বিশ্লেষণ করতে হয় সেটা শিখুন,রাজনৈতিক বই পড়ুন, প্রয়োজনে রাজনৈতিক কোর্সে অংশগ্রহণ করুন এবং হালাল রোজগারের পথ অনুসরণ করুন।

রাজনীতি কোনো পকেট ভরার পথ নয়, এটা জাতি গঠনের পথ। জনপ্রিয়তা ক্ষণস্থায়ী, নৈতিকতা চিরস্থায়ী

আপনাদের উচিত এখনই ফিরে দেখা—কি হারালেন, কিভাবে হারালেন, এবং ভবিষ্যতে এই দেশের জন্য আপনাদের ভূমিকা কি হবে। রাজনীতি শিখে আসুন, নাহলে রাজনীতি ছেড়ে দিন। Delowar Hossen

Thanks For Comment we are reply soon as possible.

Previous Post Next Post