শয়তানের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে দুনিয়াতে ও আখিরাতে ব্যর্থ করে তোলা, যাতে সে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়। নিচে শয়তানের প্রধান কিছু কৌশল উল্লেখ করা হলো যার মাধ্যমে সে একজন মানুষকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দেয়:
শয়তান মানুষের মনে কৌশলে সন্দেহ ঢুকিয়ে দেয় —
“আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন তো?”
“ইসলাম সত্যিই সঠিক পথ তো?”
শয়তান মানুষের মনোযোগ এমন কাজে ব্যস্ত রাখে যার কোনো প্রকৃত ফল নেই:
অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া, সিরিজ/গেমে আসক্তি
অহেতুক ঘুম, সময় অপচয়
‘পরের দিন করবো’ বলে কাজ পিছিয়ে দেওয়া (procrastination)
শয়তান মানুষকে নিজের জীবনের লক্ষ্য/উদ্দেশ্য ভুলিয়ে দেয়:
“তুই তো কিছুই পারিস না”
“সবাই তো এমনি চলতেছে, তুই আলাদা হইতে যাবি কেন?”
“জীবনে তো কিছুই হবে না”
শয়তান মানুষকে অবৈধ প্রেম, পর্ণোগ্রাফি, জিনা, অনৈতিক সম্পর্ক ইত্যাদির ফাঁদে ফেলে।
এগুলো প্রথমে আকর্ষণীয় মনে হয়, কিন্তু ধীরে ধীরে মানসিক ও আত্মিকভাবে মানুষকে ভেঙে ফেলে।
“আমি তো সবার চেয়ে ভালো”
“অমুকের এত টাকা, কেন আমার নয়?”
“আমি জানি, ও কিছুই জানে না”
শয়তান বলবে:
“কাল থেকে নামাজ শুরু করিস”
“তাওবা করবি কিন্তু এখন না, পরে সময় পাইবি”
শয়তান মানুষের জবানকে চালায়, যাতে সে মন্দ কথা বলে, অন্যের ক্ষতি করে।
ঘুষ, সুদ, চুরি, প্রতারণা ইত্যাদিতে লোভ দেখায়।
বলে: “সবাই করছে, তুই করলে সমস্যা কী?”
শয়তান সবসময় মানুষকে বলে:
“তোর দ্বারা হবে না”
“তুই তো পাপী, আল্লাহ তোকে ক্ষমা করবেন না”
“তুই তো সব হারাইছোস, এখন কিছুই করার নাই”
শয়তান আধুনিক জ্ঞান, ‘ফ্রিডম’, ‘সেলফ লাভ’, ‘ক্যারিয়ার ইজ লাইফ’ এর নামে মানুষকে সত্য থেকে দূরে নিয়ে যায়।
নিয়মিত নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াত
আল্লাহর যিকির ও দোয়া করা
সৎ মানুষের সান্নিধ্যে থাকা
তাওবা ও আত্মসমালোচনা করা
জীবনের লক্ষ্য স্থির রাখা এবং পরিকল্পিত জীবনযাপন
সাহস ও আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা – "আল্লাহ আমার সাথে আছেন" এই বিশ্বাস রাখা।