এই দেশে ধর্ম ব্যবসায়ী কারা? সমাজের ভাল মানুষ কারা? এর মানদণ্ড কে ঠিক করবে?

📌 এই দেশে ধর্ম ব্যবসায়ী কারা? সমাজের ভাল মানুষ কারা? এর মানদণ্ড কে ঠিক করবে? আজকাল কথায় কথায় ইসলামিক শিক্ষিত, দ্বীনদার, আলেম বা ধর্মপ্রাণ মানুষদের ‘ধর্ম ব্যবসায়ী’ বলে গালি দেওয়া যেন এক প্রকার ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। অথচ যারা এই শব্দ ব্যবহার করে, তারা অধিকাংশ সময় নিজেরাই দ্বীনের মৌলিক বিষয়গুলো থেকে অজ্ঞ কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর দেওয়া অনুশাসন থেকে সরে গেছে।

আপনি যদি তাদের বিনীতভাবে বলেন— "ভাই, আসেন নামাজে যাই" বা "কিছু ধর্মকর্মে মন দেন", তখন তারা এমন যুক্তি দাঁড় করাবে,

 — "আমি নামাজ না পড়লেও আমার ঈমান মজবুত।"  এমনভাবে উপস্থাপন করবে যেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া মানুষরাই নাকি ভণ্ড ইমান হীন, আর সে নামাজ না পড়েও ফেরেশতার মতো পবিত্র!

⚠️ অথচ আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে বলেনঃ “নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও অন্যায় থেকে বিরত রাখে।”(সূরা আল-আনকাবূত: ৪৫)

অতএব, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ত্যাগ করে, সে কীভাবে দাবি করতে পারে যে তার ঈমান মজবুত?

🔹 যারা আল্লাহর পথে চলা মানুষদেরকে তুচ্ছ করে, তাদের জন্য কুরআনে সতর্কবাণী এসেছে—

“যে আল্লাহ ও তাঁর আয়াতসমূহের প্রতি ঈমানদারদের উপহাস করে, নিশ্চয়ই সে আল্লাহর শত্রু।”

 (সূরা আত-তাওবা: ৬৫-৬৬)

এদের চোখে যে ব্যক্তি দ্বীনের বিধি-নিষেধ মেনে চলে, সৎপথে মানুষকে আহ্বান করে, সে-ই ‘ধর্ম ব্যবসায়ী’। অথচ তারা নিজেরাই প্রতিদিন কত ধরনের নাফরমানি করে— মিথ্যা, সুদ, পরনিন্দা, ঘুষ, অশ্লীলতা, বেপর্দা— কিছুই বাদ নেই! তবুও তারা সমাজে অন্যদেরকে ভালো-মন্দের সার্টিফিকেট দিতে বসে যায়।

ধর্ম ব্যবসার প্রকৃত অর্থ: ব্যবসা হারাম নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া হালাল পথে ব্যবসা করা ইবাদত।

 রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিনে নবী, সিদ্দীক ও শহীদদের সঙ্গে থাকবে।”

 (তিরমিযি, হাদিস: ১২০৯)

অতএব, দ্বীনের আলোকে ব্যবসা করা কখনও ‘ধর্ম ব্যবসা’ নয়, বরং তা আল্লাহর বিধান পালন। সমস্যা তখনই, যখন দ্বীনকে ব্যবহার করে প্রতারণা, ভণ্ডামি বা মানুষের আবেগকে শোষণ করা হয়। কিন্তু হুজুর বা আলেম শরীয়ত অনুযায়ী ব্যবসা করলে তাকে ‘ধর্ম ব্যবসায়ী’ বলা—এটি জাহেলিয়াতের পরিচয় এবং গুনাহ। একজন ধর্মিক লোক যদি রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হলেই ধর্ম ব্যবসায়ী হয় তাহলে এই সমাজে ভাল মানুষ কে হবে?

যেখানে মহান আল্লাহ তায়ালা ঝাড় ফুক দিয়েও মূল্য নেওয়া কে হালাল করেছে, সেখানে ধর্মের মধ্যে থেকে শরীয়ত সম্মতভাবে সকল ব্যবসা পরিচালনা করা হালাল। তারপরেও মানুষ নিজের মূর্খতায় কিংবা হুজুরদের ছোট করার জন্য তাদেরকে ধর্ম ব্যবসায়ী বলে গালি দেয়, মূলত এরাই গাদ্দার, অন্ধ, মূর্খ জাতি। 

মানুষের ভালো-মন্দের মানদণ্ড:

প্রকৃত ভালো মানুষের সংজ্ঞা আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন— “নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত সেই ব্যক্তি, যে সবচেয়ে পরহেজগার।”

 (সূরা আল-হুজুরাত: ১৩)

তাহলে সমাজে কে ভালো মানুষ, তার মাপকাঠি হওয়া উচিত— কে বেশি তাকওয়া ও পরহেজগারি অবলম্বন করছে, কে ভুল করলে তওবা করে ফিরে আসছে। দ্বীনের পথে চলা মানুষের ভুল থাকতে পারে, কিন্তু যারা দ্বীনের পথে চলে না, তাদের নাফরমানির পরিমাণ বহুগুণ বেশি।

 দুঃখজনক হলো— এই সমাজে এক অদ্ভুত উল্টাপাল্টা বিচার চলছে। এখানে ঈমানদার মানুষকে ভণ্ড বলা হয়, আর নাফরমানিকে সম্মানিত বানানো হয়। এ যেন আল্লাহর সতর্কবাণী পূর্ণ বাস্তবায়ন—

“তারা ভালোকে মন্দ আর মন্দকে ভালো করে দেখায়।” (সূরা ফাতির: ৮)

 যারা দ্বীনের পথে চলা মানুষদের ‘ধর্ম ব্যবসায়ী’ বলে, তারা নিজেরাই আল্লাহর কাছে বড় গুনাহগার, নাফরমান, ভন্ড হতে পারে। ভালো মানুষের মানদণ্ড আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ ঠিক করে দিয়েছেন— তাকওয়া, পরহেজগারি ও দ্বীনের প্রতি আনুগত্য। সমাজের সেই মানদণ্ডে বিচার করা উচিত, মনের খেয়ালে নয়।

Thanks For Comment we are reply soon as possible.

Previous Post Next Post