কবিতা: নিয়তির সুর
ভাগ্য যখন টেনে নেয় অচেনা গলির মোড়ে,
চোখে ধূসর ধুলো, তবু হৃদয় বলে— “থেমো না রে!”
হয়তো এ পথ পছন্দ নয়, নীরবতার ভিতরে বেজে ওঠে তবু
এক অদৃশ্য বাঁশির সুর— “এখানেই তো তোমার রূপজন্ম!”
তুমি দাঁড়িয়ে আছো— সময়ের এক গভীর স্তব্ধতায়,
চারদিকে অচেনা মুখ, অচেনা হাওয়া,
তবু সেই হাওয়ার গন্ধে মিশে আছে নিয়তির মৃদু চিঠি,
লিখে দিয়েছে সেখানে— “এই বেদনার ভেতরেই মুক্তি।”
প্রিয়, কখনো ভালোবাসাও ভাগ্যের মতো কঠিন,
হাসির আড়ালে লুকিয়ে রাখে কাঁটার বাগান,
তুমি যদি কাঁদো— আকাশ কেঁদে ওঠে সঙ্গে,
কিন্তু সেই কান্না পরিণত হয় প্রার্থনার সুরে,
যেখানে ব্যথা হয়ে ওঠে দোয়া, হাহাকার হয়ে যায় কবিতা।
তুমি নিজেকে বলো, “আমি এসেছি কোনো কারণেই!”
এই অচেনা স্থান, এই কষ্ট, এই অপেক্ষা—
সবই আমার নির্মাণের নকশা।
হয়তো এই অন্ধকারেই আমার আলো লুকিয়ে আছে,
হয়তো এই হারানোর মাঝেই আছে খুঁজে পাওয়ার পাঠ।
তাই প্রিয়তম, ভাগ্যের সামনে মাথা নত কোরো না,
বুক চিতিয়ে দাঁড়াও, যেমন প্রেমিক দাঁড়ায় প্রতিজ্ঞায়—
চোখে জল, তবু ঠোঁটে হাসি,
কারণ সে জানে— প্রেমের শেষ নেই,
এ শুধু এক অনন্ত যাত্রা, যেখানে ব্যথাই হয়ে ওঠে সৌন্দর্য।
হাসো, যদিও ভেতরটা জ্বলে যায় শোকের আগুনে,
বাঁচো, যদিও প্রতিটি নিশ্বাস ভারি হয়ে ওঠে অশ্রুতে,
কারণ সৃষ্টিকর্তা দেখছেন— তোমার ধৈর্যই তোমার প্রার্থনা।
শেষে শুধু এইটুকু মনে রেখো,
ভাগ্য তোমাকে যেখানে দাঁড় করিয়েছে,
সেখানেই তোমার আত্মা ফুলের মতো ফুটে উঠবে—
একদিন, এক অচেনা সকালবেলায়,
যখন তুমি বুঝবে— “আমি হারিনি, আমি পূর্ণ হয়েছি।”
— দিলোয়ার হোসেন