ক্ষমতার বাহাদুরি
চৈত্র-কাতি বারো মাসে কত দেখেছি
সময়ের করাল দাঁতে ক্ষমতার ক্ষয়,
কত রাজমুকুট গড়িয়ে ধূলিধূসর পথে,
কত অহংকার নিঃশব্দে মাটি হয়ে রয়।
কৃপা ছাড়া ক্ষমতা অভিশাপ,
ন্যায় ছাড়া শক্তি নিছক হিংস্রতা;
ক্ষমতার আসনে বসে যারা নিজেকে
ভগবান মনে করে—
তাদের নামই ইতিহাসে লেখা থাকে
ধ্বংসের কালো অক্ষরে।
তাই বলি—হে ক্ষমতাবান, সতর্ক হও,
ক্ষমতা আগুনের মতো—
উষ্ণতা দেয়, আবার ভস্মও করে,
যারা সঠিক ব্যবহার না জানে, তাকেই আগে দগ্ধ করে।
নয়তো পতন আর বেশি দূরে নয়,
সময় অপেক্ষা করে না কারো তরে;
আজ যে আকাশ ছুঁয়ে অহংকারে মাতে,
কাল সে ধুলোয় গড়াগড়ি খায় জনতার পায়ে।
মনে রেখো—সিংহাসন চিরস্থায়ী নয়,
চিরস্থায়ী নয় ক্ষমতার উন্মাদ আলো;
চিরস্থায়ী কেবল কর্ম ও চরিত্র,
চিরস্থায়ী ন্যায় মানুষের ক্ষমতা।
কত মানুষের পতন দেখেছি—
শীর্ষে বসে যারা দম্ভের ঝান্ডা ওড়ায়,
নিজেকে ভাবে বিশাল পর্বত,
সময় এক ঝটকায় করে দিয়েছে বালুকাময়।
কত মানুষের উত্থান দেখেছি—
যারা নতশিরে চলেছিল জীর্ণ পথে,
জলসিক্ত চোখে বুনেছিল আশা,
তাদেরই রাখালিয়াছে আজ সিংহদ্বারে।
সময়ের পালকে বাঁধা এই জীবন,
যার নেই কোনো স্থায়ী ঠিকানা;
আজ যে পূর্ণিমায় ধন্য,
কাল সে অমাবস্যার করুণার বেহাল ।
আমি দেখেছি ক্ষমতার উন্মত্ত নৃত্য,
দম্ভের উল্লাসে অন্ধ মানুষের মুখ,
ক্ষমতা পেলে মানুষ ভুলে যায়—
সে চিরস্থায়ী কোনো অধিপতি নয়।
আমি কত দেখেছি,
উত্থান-পতনের এই অনিবার্য লীলা—
ক্ষমতার চেয়েও বড় কিছু আছে এই ধরায়,
তা হলো বিবেক, বিনয় আর মানবতা।